অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগামী ২০২১–২২ অর্থবছরের বাজেটে নৌযানমালিকদের আয়করের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন। তিনি প্রস্তাব করেছেন, অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহনে নৌযানের (নিবন্ধনের দিন থেকে প্রথম ১০ বছর পর্যন্ত) দিবাকালীন যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতার ভিত্তিতে যাত্রীপ্রতি ১২৫ টাকা, আর ১০ বছরের পুরোনো হলে যাত্রীপ্রতি ১০০ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে, যা আগে ছিল ১২৫ টাকা। অর্থাৎ পুরোনো লঞ্চের মালিকদের ২৫ টাকা করে সাশ্রয় হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন শত শত লঞ্চ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। এ ছাড়া প্রায় সারা দেশেই অভ্যন্তরীণ নৌপথে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ছোট–বড় লঞ্চে চলাচল করে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রায় হাজারখানিক নিবন্ধিত লঞ্চ আছে। প্রতিবছর এসব লঞ্চের সার্ভে সনদ নবায়ন করার সময় মালিকদের কাছ থেকে সরকার অগ্রিম আয়কর কেটে রাখে। তবে বছর শেষে রিটার্ন দাখিলের সময় অগ্রিম কর সমন্বয় করা হয়।

এ বিষয়ে এনবিআরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, সাধারণত লেনদেনের ভিত্তিতে উৎসে কর কেটে রাখা হয়। কিন্তু দেশের লঞ্চমালিকদের বেশির ভাগই প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবসায়ী। তাঁদের অনেকেই কেবল সার্ভে সনদ নবায়নের জন্য সরকারি অফিসে যান। বছর শেষে অনেকে রিটার্ন দেন না। তাই তাঁদের কাছ থেকে যাত্রী ধারণক্ষমতা অনুযায়ী উৎসে কর কেটে রাখা হয়। অবশ্য বহু লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করা হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এই খাতে সরকার প্রতিবছর ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা আয়কর পায়। অভ্যন্তরীণ নৌপথে মালামাল পরিবহনে কার্গো, কনটেইনার, ডাম্পবার্জ—এসব নৌযানের ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে গ্রস টনেজ প্রতি ১২৫ থেকে ১৭০ টাকা উৎসে কর আদায় করা হয়।

উৎসে করে যেসব পরিবর্তন

এবারের বাজেটে কিছু ক্ষেত্রে উৎসে কর বাড়ানো হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে। সরকারি কোনো নিলাম থেকে পণ্য কেনার পাশাপাশি লিজ দেওয়া হলে অকশন বা নিলামের ক্রেতার কাছ থেকে ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হবে। অর্থাৎ এখন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন বন্দরের ডাকা গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ বাজেয়াপ্ত করা বিভিন্ন আমদানি পণ্যের নিলামের ক্রেতাদের দ্বিগুণ হারে উৎসে কর দিতে হবে। এ ছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোর ডাকা নিজেদের পুরোনো বা অকেজো গাড়ি, আসবাবপত্র, এসি, ফ্রিজ বিক্রির নিলামেও উৎসে কর বাড়বে।

দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ করে। যেকোনো উৎপাদনপ্রক্রিয়া, পূর্ত, নির্মাণ ও প্রকৌশল কাজের বিপরীতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যদি দেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল পায় এবং ওই অর্থ যদি বিদেশ থেকে আসে, তাহলে এখন থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ উৎসে কর দিতে হবে। আগে এই হার ছিল ১০ শতাংশ। তবে দেশে কাজ করে বিদেশ থেকে বিল পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই উৎসে কর কাটা হবে।

এখন থেকে সব বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৬ শতাংশ হারে উৎসে কর নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে যখন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হবে, তখন বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান উৎসে কর কেটে রাখবে। এতে আয়কর আদায় বাড়বে বলে মনে করেন এনবিআরের কর্মকর্তারা। সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও উৎসে কর কেটে রাখা হবে। এতে বছর শেষে আর ওই সব প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া টাকা আদায়ে ঘুরতে হবে না।