বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলডিসি উত্তরণের সুপারিশ পাওয়ার পর থেকে এক বছর ধরে বাণিজ্যসুবিধা, বিশেষ করে তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা কীভাবে আরও কয়েক বছর বহাল রাখা যায়, তা নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন সক্ষমতা ও মান কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে খুব একটা আলোচনা নেই। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, কর্মপরিবেশ—এসব ইস্যুতে সংস্কার যেন পিছিয়ে আছে।

গত বছর প্রকাশিত ডব্লিউটিওর ‘এলডিসি উত্তরণকালে বাণিজ্যে প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলডিসি হিসেবে পাওয়া শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসুবিধা হারালে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৪ শতাংশের বেশি কমতে পারে। শুধু পোশাক রপ্তানি কমতে পারে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি।

রপ্তানিকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, এর একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি পণ্যের ৬০ শতাংশের বেশি যায় ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে। অবশ্য ২০২৬ সালের পর তিন বছর পর্যন্ত ইউরোপীয় বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) পাবে। এরপর জিএসপি প্লাস সুবিধায় বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত না হতে পারলে গড়ে বাংলাদেশি পণ্যে ১০ শতাংশের মতো শুল্ক দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করায় তাদের পণ্য বিনা শুল্কে ইউরোপে যাবে। এভাবে বাংলাদেশ পিছিয়ে যাবে।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে এলডিসি হিসেবে এখন বাংলাদেশ শিল্প ও কৃষি খাতের বিভিন্ন পণ্য বা সেবার ওপর ভর্তুকি দিতে পারে। রপ্তানি আয় বা রেমিট্যান্স আনায় নগদ সহায়তা দেয়। এলডিসি থেকে বের হলে এসব সুবিধা নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে।

আরও পরীক্ষা দিতে হবে

গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সুপারিশটি গ্রহণ করা হলেও চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেতে বাংলাদেশকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ওই বছরের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের স্বীকৃতি লাভ করবে।

এত দিন বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণপ্রক্রিয়া, সব সূচকে মান অর্জন, সুপারিশ—এসবই ছিল জাতিসংঘের কারিগরি কমিটির কার্যক্রম। এখন বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়টি রাজনৈতিক অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হলো। কারণ, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতিটি দেশের সরকারের মনোনীত প্রতিনিধিরা আছেন। কারিগরি কমিটিতে বিশেষজ্ঞরা আছেন।

আগামী পাঁচ বছর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির উন্নতি অব্যাহত রাখতে হবে। তা না হলে উত্তরণ পিছিয়ে দিতে পারে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। এমন নজিরও আছে। যেমন ২০০৩ সালে মালদ্বীপকে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করে সিডিপি। সুনামির কারণে মালদ্বীপকে ৯ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২০১৮ সালে নেপালের উত্তরণের সুপারিশ গ্রহণ করার কথা থাকলেও ভূমিকম্পের কারণে তিন বছর পর এবার তা মিলল।

এলডিসি উত্তরণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পরিকল্পনা কী, জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। রপ্তানিবাজার, ওষুধশিল্পসহ কোন খাত কী ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে এবং তা উত্তরণে কৌশল নির্ধারণে ওই সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় একটি সমীক্ষা করেছে। সেই কৌশল অনুযায়ী সরকার এগোচ্ছে। তাই বাংলাদেশ হঠাৎ করে বিপদে পড়বে না।

২০১৮ সালে জাতিসংঘের সিডিপির ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতার মান—এ তিন সূচকেই নির্দিষ্ট মান অর্জন করে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মূল্যায়নে তিনটি সূচকে আবারও মান অর্জন করে বাংলাদেশ। ফলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশের নাম চূড়ান্ত সুপারিশ করে কারিগরি কমিটি সিডিপি।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন