default-image

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এককালীন সম্মানী দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা দেওয়ার এক বছর এবং বাজেটে বরাদ্দ দেওয়ার আট মাস পর তাঁদের সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এ সম্মানী দেওয়ার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দুই দফায় চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত মোট ৪ হাজার ২৩২ ব্যক্তির সম্মানী বাবদ ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এ টাকা দুই মাসের মূল বেতনের সমান। অর্থ বিভাগ দুটি ভিন্ন চিঠি দিয়ে এ কথা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে জানিয়েছে।

মোট ২৮টি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নামে অর্থ ছাড় করেছে অর্থ বিভাগ। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসক ১ হাজার ৮৮০ জন, নার্স ৮৪৫ জন এবং স্বাস্থ্যকর্মী ১ হাজার ৫০৭ জন। কিন্তু ‘স্বাস্থ্যকর্মী’র অস্পষ্ট সংজ্ঞার প্যাঁচে পড়ে অনেকেই পাবেন না এই সম্মানী।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ইহতেশামুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর বাকি কাজটা মন্ত্রণালয়গুলো করবে, এটাই স্বাভাবিক। এত দিন পর টাকাগুলো দিচ্ছে, কিন্তু সবাই পাবেন না—এটা আহত করল। সব শ্রেণির লোক নিয়েই তো একটা হাসপাতাল।

বিজ্ঞাপন

উদাহরণ দিয়ে বিএমএ মহাসচিব বলেন, হাসপাতালে যখন একজন রোগী আসেন এবং দৌড়ে গিয়ে প্রথম যে লোকটি রোগীকে ট্রলিতে তোলেন, তাঁকে সম্মানী না দেওয়ার মানেই হচ্ছে, এখানে ভেদাভেদ করা হচ্ছে। নীতিনির্ধারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত লোক না থাকলে এমনটাই হবে।

হাসপাতালগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্মানী পাবে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা। এর ১৭২ জন চিকিৎসক, ৩৩৯ জন নার্স এবং ৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে দেওয়া হবে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অবস্থান। এ হাসপাতালের ২৮০ জন চিকিৎসক ও ১৪১ জন স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা। তালিকায় এ হাসপাতালের কোনো নার্সের নাম নেই।

রংপুর মেডিকেল কলেজের ১৯৭ জন চিকিৎসক ও ২০৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য রয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ১৬৫ চিকিৎসক ও ৩১০ স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য রয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

সম্মানী পাওয়া শীর্ষ ১০টিতে অন্য হাসপাতালগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ১৩৫ চিকিৎসক, ১৮২ নার্স এবং ৬৬ স্বাস্থ্যকর্মী পাবেন ১ কোটি ৯৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। খুলনা মেডিকেল কলেজের ১৫০ চিকিৎসক ও ৭১ স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য রয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ৬৬ চিকিৎসক, ৭০ নার্স ও ৭৩ স্বাস্থ্যকর্মীকে দেওয়া হবে ১ কোটি ১১ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

এ ছাড়া দিনাজপুরের আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজের ১০৮ চিকিৎসক ও ৭৪ স্বাস্থ্যকর্মী পাবেন ১ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ঢাকার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার গ্রিড হাসপাতালের ১৬৯ চিকিৎসক ও ১২ স্বাস্থ্যকর্মী পাবেন ৯৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুকূলে সুপারিশ করা হয়েছে। মিরপুরের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ৯৪ চিকিৎসক ও ৩৪ স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য রয়েছে ৬৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এই টাকাও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুকূলে।

সবচেয়ে কম পাবে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল। এর তালিকায় চিকিৎসক ও নার্স নেই। শুধু ৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী পাবেন ৭৮ হাজার টাকা। তবে ২৮ হাসপাতালের মধ্যে ১৫টিরই কোনো নার্স সম্মানী পাচ্ছেন না। সম্মানী পাওয়ার তালিকায় থাকা অন্য হাসপাতালগুলো হচ্ছে জেলা সদর হাসপাতাল মৌলভীবাজার, পিরোজপুর, সুনামগঞ্জ, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বান্দরবান, রাঙামাটি, লক্ষ্মীপুর ও লালমনিরহাট।

আরও রয়েছে বিআইটিআইডি, চট্টগ্রাম রেলওয়ে কোভিড-১৯ আইসোলেশন হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়, সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতাল, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতাল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতাল, সিরাজগঞ্জ।

অর্থ বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে জানিয়েছে, আউটসোর্সিং বা অন্য কোনোভাবে নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এ সম্মানী পাবেন না। হার্ট, লাং, সিটি স্ক্যান, এনজিওগ্রাম ও ইসিজি টেকনিশিয়ানরাও পাবেন না সম্মানী। এ ছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, টেলিফোন অপারেটর, অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, হিসাবরক্ষক, গাড়িচালক, ইলেকট্রিশিয়ান, মুয়াজ্জিন, মেকানিক, স্টেনোটাইপিস্ট, স্টোরকিপার, মালি—তাঁদেরও সম্মানী দেওয়া হবে না বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।

দেশে ৮৫ হাজারের মতো চিকিৎসক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৫ হাজার সরকারি, বাকিরা বেসরকারি। এ ছাড়া নার্স আছেন ৫২ হাজার, যাঁদের মধ্যে ৩৮ হাজার সরকারি।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন