default-image

রাষ্ট্রীয় সংস্থা সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) অর্থ আত্মসাৎ হওয়ার বিষয়ে আলাদা তদন্ত করছে তিনটি সংস্থা। সংস্থাগুলো হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং স্বয়ং এসবিসি।

এসবিসির অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগে কর্মরত ব্যবস্থাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে একটি চক্র সংস্থাটির আয় থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেয়। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘১০ বছর ধরে জালিয়াতি, ২৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এসবিসির নাম ভাঙিয়ে কৌশলে ব্যাংক হিসাব খোলে ২৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা জমা করে চক্রটি। সেখান থেকে তারা তুলে নেয় ২৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ব্যাংকে এখনো ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জমা আছে। পুরো জালিয়াতির সঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো), বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) ব্যাংকের কর্মকর্তারাও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসবিসি গতকাল জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি জানার পর তারা তদন্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ প্রমাণিত। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আবুল কাশেমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি দুদককেও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ করলে এসবিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান প্রথম আলোকে বলেন, নতুন করে ব্যাপক তদন্তের জন্য এসবিসি তিন সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটির কাজ চলমান।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে সংস্থাটি একটি মামলা করেছে। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সিরাজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষের দিকে। আবুল কাশেমের সম্পত্তি জব্দ হতে পারে বলে দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশে আইডিআরএ সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক এস এম শাকিল আখতারকে প্রধান করে গত ২১ জানুয়ারি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। শাকিল আখতার গত মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, কাজ চলছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ হবে।

এ ছাড়া হাইকোর্ট মঙ্গলবার আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে এসবিসির অবস্থান জানতে চেয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও সরকারি কর্মচারীদের অফিসে আসতে হয়। কিন্তু আবুল কাশেম অফিসে আসছেন না। কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তিনি অবশ্য এসবিসিকে লিখিত জবাব দিয়েছেন। এসবিসি সূত্রে জানা গেছে, আবুল কাশেম অর্থ আত্মসাতের কথা অস্বীকার করেছেন।

চক্রের মধ্যে থাকা বিউবো, বিসিএসআইআর এবং বুয়েটের সন্দেহভাজন কর্মচারীদের জড়িত থাকার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কোনো তদন্ত দল গঠিত হয়নি।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন