বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী আত্মপক্ষ সমর্থন করে আরও বলেন, বারবার যদি একই রকম ভুল হয় তাহলে এগুলো অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা থেকে বাদ যাবে। তবে এখন যেগুলো আসছে, সেগুলো নতুন। কোভিড সারা বিশ্বে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে। এর মধ্যে কাজের পরিধিও বাড়ছে। এখন এগুলো চিন্তা না করে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে হবে। এই বিবেচনায় আজ এটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর কেনায় সব মিলিয়ে ৯২ কোটি টাকার বেশি খরচ পড়বে বলে জানা গেছে। সূত্রগুলো জানায়, একেকটি জেনারেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতি মিনিটে ৪০৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন উৎপাদনে সক্ষম হবে। প্রতি সেট যন্ত্র থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে অন্তত এক হাজার শয্যায়। সিলিন্ডারের মাধ্যমেও অক্সিজেন দেওয়া যাবে।

default-image

করোনার কারণে অর্থনীতি চাপে ছিল, তার পরও মাথাপিছু আয় ৯ শতাংশ কীভাবে বাড়ল, অর্থনীতির কোন দিকটা ভালো হওয়ার কারণে তা সম্ভব হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী একের পর এক সাহসী ভূমিকা রেখেছেন, সে কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। আর আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটাই এখন উন্নতির দিকে, নেতিবাচক কিছু নেই।’

অর্থমন্ত্রী একের পর এক উদাহরণ দিতে থাকেন। বলেন, মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪৭, যা আগের মতোই আছে। দুর্যোগের মধ্যেও এপ্রিল পর্যন্ত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। রেমিট্যান্সের (প্রবাসী আয়) প্রবৃদ্ধি ৪০ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত বছরের জুনে ছিলে ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, এখন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। আগামী অর্থবছর নিঃসন্দেহে তা ৫ হাজার কোটি ডলার হবে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, ‘খেলাপি ঋণ অনেক কমে আসছে। পুঁজিবাজারে গত বছরের জুনে ৩ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ছিল বাজার মূলধন। এখন তা ৪ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। যে রাজস্ব নিয়ে সব সময় বিচলিত থাকি, গত এপ্রিল পর্যন্ত তার প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৮ শতাংশ।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বীকার করতে হবে যে আমরা আগের চেয়ে অনেক ভালো করছি। ভালো করার পেছনে যুক্তি হলো প্রধানমন্ত্রী সময় উপযোগী, সময়মতো এবং প্রণোদনা দিয়েছেন। এগুলো প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছেছে। যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, যাঁরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অটিস্টিক—সবাইকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সে কারণেই টাকার সরবরাহ বেশি। গ্রামীণ অর্থনীতি এখন অনেক ভালো।’
আমদানি পরিস্থিতি কেমন, আর প্রবাসী আয় বিদেশে চলে যায় কত? এ দুই বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল এসব চাহিদার বিষয়ে যথাযথ সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেটা করেনি।
আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থমন্ত্রী

ক্রয় কমিটিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২টি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ২টি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২টি, বিদ্যুৎ বিভাগের ১টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ১টি, জননিরাপত্তা বিভাগের ১টি এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের ১টি অর্থাৎ মোট ১০টি প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে ৯টি অনুমোদিত হয়।

এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সার্ভিল্যান্স সিস্টেম প্রবর্তনের লক্ষ্যে ‘হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিসিটিভি মনিটরিং সিস্টেম, অন্যান্য নির্মাণ ও অবকাঠামো এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ। এতে খরচ হবে ১২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা।

এ ছাড়া দেশের সব খাদ্যগুদামে ২৬১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় সফটওয়্যার স্থাপন, ডেটা সেন্টার স্থাপন, ইন্টারনেট কানেকশন, মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন এবং সফটওয়্যার-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সরবরাহের কাজ অনুমোদিত হয়েছে।

৫ হাজার ৬২৯ কোটি টাকার ‘পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং’-এর কাজ পেয়েছে বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি জান ডে নাল। এ ছাড়া ২৩১ কোটি টাকার ৪টি কোস্টাল যাত্রীবাহী জাহাজ সরবরাহ ও নির্মাণের কাজ পেয়েছে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন