সয়াবিন তেল আমদানিতে জুনের পর আবার ভ্যাট বসছে কি?

ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকেরা শুধু সয়াবিন তেলের দাম কমিয়েছেন, কিন্তু পাম তেলের দাম কমাননি কেউ।

সয়াবিন তেল
ছবি: সংগৃহীত

খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের সয়াবিন তেলের দাম আজ সোমবার থেকে কমছে। প্রতি লিটারে কমছে সাড়ে তিন টাকা থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গতকাল রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সমিতি গতকাল সিদ্ধান্তটি নেওয়ার আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৮০ টাকা, যা এত দিন ছিল ১৮৫ টাকা। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম পড়বে ১৯৯ টাকা। এত দিন এটি বিক্রি হতো ২০৫ টাকায়। এ ছাড়া পাঁচ লিটার বোতলের সয়াবিন তেলের দাম ৯৯৭ থেকে কমে আজ থেকে ৯৮০ টাকায় বিক্রি হবে।

এদিকে সচিবালয়ে গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ আভাস দেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমতে শুরু করায় দু-এক দিনের মধ্যে এটির দাম কমতে পারে।

কয়েক দিন আগে একটি বৈঠক করে আমরা দেখলাম দাম কিছুটা কমানো যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুরোধ করেছে, তাই দাম কমিয়েছি।
মো. শফিউল আথহার, পরিচালক, টি কে গ্রুপ

বাণিজ্যসচিব দু-এক দিন বললেও পরিশোধন কারখানা সমিতি দিনে দিনেই দর কমানোর বিজ্ঞপ্তি দেয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম যে হারে কমেছে, দেশে কিন্তু সে তুলনায় কম কমেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ, মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমেছে টনপ্রতি ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ ১ হাজার ৯৭০ ডলারের সয়াবিন নেমে এসেছে ১ হাজার ৪৬৪ ডলারে।

আবার ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানাগুলোর সমিতি শুধু সয়াবিনের দাম সামান্য কমালেও পাম তেল বা সুপার পাম তেল নিয়ে কিছু বলেনি। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দামও বেশ কমেছে।

পাম তেলের দাম না কমানোর কারণ জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ গত রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন আগে পাম তেলের দাম কমানো হয়েছে। চলতি মাস শেষ হওয়ার পর এ ব্যাপারে দেখা যাবে।

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে থাকায় গত মার্চের মাঝামাঝি তিন ধাপে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমিয়েছে সরকার। তখন আমদানি, উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পর্যায়ে ৩০ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে দুই দফা প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে আমরা অভ্যস্ত। কয়েক দিন আগে একটি বৈঠক করে আমরা দেখলাম দাম কিছুটা কমানো যায়।
মো. শফিউল আথহার, পরিচালক, টি কে গ্রুপ

এরপর বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৩৬ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬০ টাকা ও বোতলজাত পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৭৬০ টাকা করা হয়। কিন্তু বেশি দিন টেকেনি এ দাম। দুই থেকে তিন মাসের ব্যবধানে কয়েক দফায় দাম বাড়ানো হয়। শেষ দফায় বাড়ানো হয় বাজেট ঘোষণার দিন ৯ জুন। ওই দিন লিটারে গড়ে ৭ টাকা বাড়ানো হয়। তাতে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা, বোতলজাত তেল ২০৫ টাকা ও পাঁচ লিটারের এক বোতল তেল ৯৯৭ টাকায় তোলা হয়।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গতকাল বাজারে এক লিটার খোলা সয়াবিন ১৮০ থেকে ১৮৮ টাকা, বোতলজাত তেল ১৯৫ থেকে ২১০ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতল ৯৮৫ থেকে ৯৯৫ টাকা দরে বেচাকেনা হয়েছে।

নতুন চ্যালেঞ্জ

গত মার্চে এনবিআর যে ভ্যাট কমিয়েছিল, তা কার্যকর থাকার কথা বলা হয়েছে ৩০ জুন পর্যন্ত। সেই হিসাবে আর তিন দিন পরই ভ্যাট হার আগেরটা বহাল হবে। তখন আবার নতুন করে হার নির্ধারণের প্রশ্ন আসবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অবশ্য দাম সহনীয় রাখার কথা বিবেচনা করে এনবিআরকে ৩০ জুনের পরও ভ্যাট আরোপ না করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে এনবিআর থেকে কোনো জবাব পায়নি।

এ নিয়ে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা এনবিআরকে অনুরোধ করেছি ভ্যাট না নেওয়ার সময়সীমা যেন আরও বাড়ানো হয়।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় দুই লাখ টন, বাকি ১৮ লাখ টনই আমদানি করতে হয়।

ভোজ্যতেল বিপণনকারী শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি টি কে গ্রুপের পরিচালক (অর্থ ও পরিচালন) মো. শফিউল আথহার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে আমরা অভ্যস্ত। কয়েক দিন আগে একটি বৈঠক করে আমরা দেখলাম দাম কিছুটা কমানো যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুরোধ করেছে, তাই দাম কমিয়েছি।’

৩০ জুনের পর ভ্যাট বহাল থাকলে কি দাম আবার বাড়বে? এমন প্রশ্নের জবাবে শফিউল আথহার তাসলিম বলেন, ‘একদিকে ডলারের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে সয়াবিনের দাম কমেছে। কিছুদিন পর আবার বৈঠক হবে। সেখানে সব দিক হিসাব করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে।’