বিজ্ঞাপন
সব সময় ভিয়েতনাম ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হয়। প্রণোদনা না বাড়ালে সেটি সম্ভব হবে না।
গোলাম আহসান, সভাপতি বাংলাক্রাফট

হস্তশিল্প রপ্তানিতে দীর্ঘদিন ধরে ১৫-২০ শতাংশ নগদ সহায়তা বিদ্যমান ছিল। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সেটি কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। এখন আবার সেটি ২০ শতাংশে উন্নীত এবং তা ২০২৫ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাক্রাফট। তাদের যুক্তি, হস্তশিল্পজাত পণ্য দেশীয় কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদন করা হয়। আর কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যায়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সরাসরি জড়িত। সব মিলিয়ে হস্তশিল্পে মূল্য সংযোজনের হার শতভাগ। তাই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নগদ সহায়তা দরকার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, চার বছর ধরে হস্তশিল্পের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ২ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বা ২৪১ কোটি টাকার হস্তশিল্প রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৪ শতাংশ বেশি। করোনার কারণে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয় ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৯৯ লাখ ডলার।

বাংলাক্রাফট আধুনিক নকশা উদ্ভাবনের মাধ্যমে হস্তশিল্পে বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে ও রপ্তানি বাড়াতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, রপ্তানিসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির অষ্টম সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাক্রাফটকে কাকরাইলে সরকারি খাসজমি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তা দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রতিবছরের মতো চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবেও বিষয়টি উল্লেখ করেছে বাংলাক্রাফট।

এ ছাড়া একটি কারুপল্লি স্থাপনের জন্য ৩০ বছর ধরে দাবি করে আসছে বাংলাক্রাফট। সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিলেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। ফলে নতুন করে আবারও বাজেট প্রস্তাবে দাবিটি তুলে ধরেছে সংগঠনটি। তারা বলছে, প্রতিবেশী ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও নেপালে সরকারের সহায়তায় কারুপল্লি গড়ে উঠেছে। এসব দেশের কারুপল্লিকে বিদেশি ক্রেতারা লাখ লাখ ডলারের ক্রয়াদেশ দিয়ে থাকেন। তাই এ দেশেও কারুপল্লি স্থাপিত হলে পণ্যের গুণমান ও রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। কারুপল্লির জন্য বিসিক শিল্পনগরে জায়গা বরাদ্দ চায় বাংলাক্রাফট।

জানতে চাইলে বাংলাক্রাফটের সভাপতি গোলাম আহসান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনাকালেও আমরা হস্তশিল্প রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাচ্ছি। তবে গত এক বছরে স্থানীয় বাজারে কাঁচামাল ও পরিবহন খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়লেও ক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে নগদ সহায়তা না বাড়ালে রপ্তানিকারকদের লোকসান গুনতে হবে। তা ছাড়া আমাদের সব সময় ভিয়েতনাম ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হয়। প্রণোদনা না বাড়ালে সেটি সম্ভব হবে না।’

গোলাম আহসান আরও বলেন, মহামারির কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আর্থিক সংকটে আছে। সবারই বর্তমানে কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য বিপুল অর্থ দরকার। তাই এ খাতে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য বাজেটে একটি নির্দেশনা প্রয়োজন। অন্যথায় ক্রয়াদেশ পেয়েও রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন করতে পারবে না অনেকে। তিনি জানান, করোনাকালে এই খাতের মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পেয়েছে। বাকিরা চেষ্টা করেও পায়নি।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন