default-image

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের পেছনের সড়কের দুই পাশের রেস্তোরাঁগুলো ভরদুপুরে বেশ ব্যস্ত থাকে। বিপণিবিতানগুলোতে আসা দর্শনার্থী থেকে শুরু করে দোকানের কর্মীদের অনেকেই এসব রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খান। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরোপ করা বিধিনিষেধের কারণে বিপণিবিতানগুলো বন্ধ। তা ছাড়া সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত। ফলে ওই সড়কের কোনো রেস্তোরাঁতেই ভিড় নেই। সড়কটিতে অন্তত ১০টি রেস্তোরাঁ থাকলেও খোলা মাত্র চারটি।

বসুন্ধরার পেছনের ফটকের বিপরীতে একসঙ্গে চার-পাঁচটি ছোট রেস্তোরাঁ। তার মধ্যে একটির কোনো সাইনবোর্ডও নেই। মালিক রফিকুল ইসলাম নামের একজন। তবে রেস্তোরাঁটি চালান জসিম উদ্দিন নামের এক তরুণ। জসিমের দোকান নামেই এটি বেশি পরিচিত। ১২-১৩ বছর ধরে তিনি রেস্তোরাঁটিতে কাজ করছেন। পদ ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার)। মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে যখন জসিমের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তখন তাঁর রেস্তোরাঁর ভেতরে ভাত খাচ্ছেন মাত্র দুজন।

বিজ্ঞাপন
default-image
গত বছরের সাধারণ ছুটির সময় আমরা খাওয়াদাওয়ার কষ্ট করেছি। এবারও লম্বা সময় বিধিনিষেধ ও মার্কেট বন্ধ থাকলে কী হবে, ভাবতেই ভয় করছে।
জসিম উদ্দিন, রেস্তোরাঁকর্মী।

জসিম উদ্দিন বললেন, ‘ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। বেচাকেনা নেই। সাধারণ সময়ে তিন বেলায় ৩০০-৪০০ লোক আমাদের হোটেলে খায়। তাতে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকার বিক্রি হয়। কিন্তু সরকারের বিধিনিষেধ ও মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে সোমবার সারা দিনে বিক্রি করেছি দেড় হাজার টাকা। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ৮০০ টাকা। এভাবে চললে দোকানভাড়া ও বেতন দেওয়া যাবে না।’

রেস্তোরাঁ থেকে কেবল খাবার কেনা যাবে, বসে খাওয়া যাবে না—সরকারের এমন নির্দেশনার কথা মনে করিয়ে দিলে জসিম উদ্দিন বললেন, ‘আমাদের খাবারের কাস্টমার মূলত বসুন্ধরার দোকানের কর্মচারীরা। তা ছাড়া গাড়ির ড্রাইভার ও রিকশাচালকেরাও আসেন। বর্তমানে দুই-চারজন যারা আসে, তারা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের পক্ষে খাবার কিনে নিয়ে বাড়িতে খাওয়া সম্ভব না। তা ছাড়া কম দামের খাবার তো কেউ অনলাইনে অর্ডার দিয়ে নেবে না।’

রেস্তোরাঁটিতে কাজ করেন ১৫-১৬ জন কর্মী। রেস্তোরাঁর ছোট্ট কক্ষটির ভাড়া মাসে ৩০ হাজার টাকা। জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সরকার আদেশ দিয়েছে, তাই আমরা মেনে চলছি। আইন মেনে না চললে ঝামেলায় পড়তে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। গত বছরের সাধারণ ছুটির সময় আমরা খাওয়াদাওয়ার কষ্ট করেছি। এবারও লম্বা সময় বিধিনিষেধ ও মার্কেট বন্ধ থাকলে কী হবে, ভাবতেই ভয় করছে।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন