বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
গত বছরের অক্টোবর মাসে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটের এক সভায় পুরোনো ফাইলপত্র ঘেঁটে বিলাসী সিনেমা হলের কাছে বকেয়ার হদিস মেলে। এরপর মালিকদের সঙ্গে টানা কয়েক মাস নানা দেনদরবারের পর সম্প্রতি ওই বকেয়া ভ্যাট আদায় করা হয়।

গত বছরের অক্টোবর মাসে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটের এক সভায় পুরোনো ফাইলপত্র ঘেঁটে বিলাসী সিনেমা হলের কাছে বকেয়ার হদিস মেলে। এরপর মালিকদের সঙ্গে টানা কয়েক মাস নানা দেনদরবারের পর সম্প্রতি ওই বকেয়া ভ্যাট আদায় করা হয়। কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটের এক প্রতিবেদনে বকেয়া ভ্যাট আদায়ের এ কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।

বিলাসী সিনেমা হলের মালিক তিন ভাই হলেন আবদুল মান্নান, আবদুল হাই ও কামাল উদ্দিন। আশির দশকের শুরুতেই বাংলা সিনেমার সোনালি দিনে এই সিনেমা হল চালু করা হয়। তখন রমরমা ব্যবসা করেন তাঁরা। ১৯৯১ সালে এসে ৯ লাখ ৪৯ হাজার ২৮১ টাকা ভ্যাট বকেয়া পড়ে। টিকিটের বিপরীতে এই ভ্যাটের টাকা আদায় করা হলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। ১৯৯৩ সালে বকেয়া ভ্যাট পরিশোধে হলের মালিকদের নোটিশ দেয় ভ্যাট বিভাগ। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া মেলেনি।

র্শকের অভাবে একসময় সিনেমা হলটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন মালিকেরা। কয়েক বছর অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল হলটি। ২০১০ সালে সিনেমা হলটি ভেঙে বিপণিবিতান তৈরি করা হয়। এ কারণে বিলাসী সিনেমা হলের কাছে বকেয়ার বিষয়টি একসময় হারিয়ে যায়।

এরপর বাংলা সিনেমার দুর্দিন শুরু হয়। দর্শকের অভাবে একসময় সিনেমা হলটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন মালিকেরা। কয়েক বছর অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল হলটি। ২০১০ সালে সিনেমা হলটি ভেঙে বিপণিবিতান তৈরি করা হয়। এ কারণে বিলাসী সিনেমা হলের কাছে বকেয়ার বিষয়টি একসময় হারিয়ে যায়। এর মধ্যে হলের এক মালিক আবদুল হাই ২০১৮ সালে মারা যান। তার আগেই হলের জায়গা নিজেদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারাও করে নেয় মালিকপক্ষ।

কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটের আওতায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দেন। সেই হিসাবে ফেনী জেলার ব্যবসায়ীরা এই কমিশনারেটের আওতাভুক্ত। গত বছরের অক্টোবর মাসে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটের এক সভায় বিলাসী সিনেমা হলের বকেয়া ভ্যাটের বিষয়টির হদিস পাওয়া যায়। ওই সভায় বকেয়া ভ্যাট আদায়ে আবারও উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য ফেনী সদর ভ্যাট সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও বকেয়া ভ্যাট মওকুফ হয় না। এমনকি মালিক মারা গেলেও তাঁর উত্তরাধিকারদের বকেয়া ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়।
বেলাল হোসাইন চৌধুরী, কমিশনার, কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেট

দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুজ্জামান হলের মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের বোঝানো হয়, সরকারের বকেয়া ভ্যাট মওকুফের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও বকেয়া ভ্যাট দিতে হয়। এ ছাড়া কোনো মালিকের মৃত্যু হলেও উত্তরাধিকারদের রাজস্ব বকেয়া পরিশোধ করতে হয়। বকেয়া পরিশোধ না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। এ নিয়ে সিনেমা হলের মালিকপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন ভ্যাট কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে মালিকপক্ষ বকেয়া ভ্যাট পরিশোধে রাজি হয়। তারই অংশ হিসেবে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর বকেয়া ভ্যাট পরিশোধ করেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও বকেয়া ভ্যাট মওকুফ হয় না। এমনকি মালিক মারা গেলেও তাঁর উত্তরাধিকারদের বকেয়া ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। রাজস্ব কর্মকর্তারা এত পুরোনো ভ্যাট আদায় করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন