দাতা সংস্থা ও দেশগুলো সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ দেয়। এ ধরনের অর্থসহায়তা পেতে নির্দিষ্ট একটি প্রকল্প তৈরি করতে হয়। এরপর ওই প্রকল্প ধরে দাতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি চলে। কিন্তু বাজেট সহায়তার অর্থ দিয়ে সরকার নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না। বাজেট সহায়তার অর্থ সরকার যেকোনো খাতে খরচ করতে পারে। তাই চাপ সামলাতে বাজেট সহায়তার অর্থ নেওয়া সরকারের জন্য
বেশি সুবিধাজনক। তবে এ জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।

এডিবির সঙ্গে এখন বাজেট সহায়তার যে দর-কষাকষি হয়েছে, তাতে বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন ব্যবসায় পরিবেশ উন্নয়ন, জ্বালানির দাম নির্ধারণ, ভর্তুকিসহ বিভিন্ন খাতে নীতি সংস্কার আনতে হবে। এসব শর্ত কতটা বাস্তবায়িত হলো, তা নিয়মিত নজরে রাখবে এডিবি। বাজেট সহায়তার জন্য কোনো খাত দেখাতে না হলেও এডিবির বাজেট সহায়তার অর্থের খরচের খাত জানাতে হয়। এবারের যে ৫০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে খরচ করতে চায় বলে জানা গেছে।

২০২০ সালের শুরুতেই করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। তাতে প্রায় সবকিছু স্থবির হয়ে যায়। সরকারের আয়ে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। তখন এডিবি জরুরি ভিত্তিতে অর্থসহায়তা দিয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেয় এডিবি। চলতি বাজেটেও এই পর্যন্ত ২৫ কোটি ডলার দিয়েছে। বাকি ২৫ কোটি ডলারের কিস্তি আগামী জুন মাসের মধ্যে পাওয়া যাবে। ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট সহায়তার প্রথম কিস্তির ২৫ কোটি ডলার আগস্টের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে এর আগে এডিবির বোর্ড সভায় নতুন বাজেট সহায়তার অর্থ অনুমোদন হতে হবে। পাশাপাশি এডিবি ও ইআরডির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। করোনা শুরুর পর এডিবির পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকেও বাজেট সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ।

কাল আসছেন এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট শিজিং চ্যাং আগামীকাল সোমবার ছয় দিনের বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এটি মূলত এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের নিয়মিত সফরের অংশ। সফরকালে তিনি দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন প্রকল্প, সংস্কার, কোভিড সংকট উত্তরণ—এসব নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

সফরকালে শিজিং চ্যাং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে নির্মাণাধীন রেলপথ পরিদর্শনে যাওয়ারও কথা রয়েছে।

এডিবির কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজির (সিপিএস ২০২১-২০২৫) অধীনে পাঁচ বছরে বাংলাদেশের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার পাওয়ার সুযোগ আছে। এডিবির দেশভিত্তিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য এই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থপ্রাপ্তি ধরেই অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিনিয়োগ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গত অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে এডিবির কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ হলো এডিবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণগ্রহণকারী দেশ। এ অঞ্চলের মধ্যে ভারত এডিবির কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ঋণ পেয়ে থাকে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন