default-image

দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ করোনাকালে সরকারের দেওয়া সহায়তা পায়নি। বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রণোদনা পাওয়ার হার বেশি। আবার যেসব খাতের ‘কণ্ঠস্বর জোরালো’, সেসব খাতেই বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা পেয়েছে।

সার্বিকভাবে ৬৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা পায়নি। ৯ শতাংশ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে জানে না। আর ২২ শতাংশ নিশ্চিত করেছে তারা প্রণোদনা পেয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের এক যৌথ জরিপে এ চিত্র উঠে আসে। ‘কোভিড-১৯ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আত্মবিশ্বাস’ শীর্ষক এ জরিপ গতকাল রোববার এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় প্রকাশ করা হয়।

আটটি বিভাগের ৫০৩টি ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এই জরিপ করা হয়। এর মধ্যে ২৫৩টি উৎপাদন খাতের ও ২৫০টি সেবা খাতের।

জরিপের ফল তুলে ধরেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, করোনার শুরুর দিকে অর্থনীতিতে যে ধাক্কা এসেছিল, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এগিয়ে আছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো, পিছিয়ে ছোটরা। জরিপে অংশ নেওয়া ক্ষুদ্র ও ছোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুনরুদ্ধারের গড় হার প্রায় ৪৭ শতাংশ, মাঝারিদের মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ এবং বড়দের ক্ষেত্রে তা ৭৭ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
শ্রমঘন শিল্প বলেই যে তৈরি পোশাক খাত বেশি প্রণোদনা পায় তা নয়, তাদের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত জোরালো। এ কারণেই অন্যদের তুলনায় বেশি প্রণোদনা পায় তারা।
জাহিদ হোসেন, সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়

জরিপে কোন কোন খাতে প্রণোদনা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি, তা–ও উঠে আসে। দেখা যায়, সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে পোশাক ও বস্ত্র খাত। এ ছাড়া চামড়া, খাদ্য ও আর্থিক খাতে প্রণোদনা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের হার বেশি। একেবারেই পিছিয়ে রয়েছে পাইকারি বিক্রেতা, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত।

কেন প্রণোদনা পাওয়া যায়নি, প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েকটি কারণকে বড় করে দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রণোদনা ঋণ হিসেবে দেওয়া, অনুদান নয়; প্রক্রিয়াগত জটিলতা, সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের জন্য আলাদা প্যাকেজ না থাকা, ব্যাংকবিষয়ক সেবার ক্ষেত্রে জটিলতা এবং প্রক্রিয়া বুঝতে না পারা।

জরিপের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, শ্রমঘন শিল্প বলেই যে তৈরি পোশাক খাত বেশি প্রণোদনা পায় তা নয়, তাদের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত জোরালো। এ কারণেই অন্যদের তুলনায় বেশি প্রণোদনা পায় তারা। তিনি বলেন, কুটির ও ছোট শিল্প আরও শ্রমঘন। তবে তারা সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে।

জরিপের একটি অংশ ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যে কনফিডেন্স বা আত্মবিশ্বাস পরিস্থিতি নিয়ে। এতে উঠে আসে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাসের প্রক্ষেপণ ছিল ১০০-এর মধ্যে প্রায় ৫৮। এপ্রিল-জুন সময়ের ক্ষেত্রে তা নেমে আসে ৪১-এ।

সরকার করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গত বছর প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। যার আওতায় কম সুদে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোর কাছে কুটির ও ছোট শিল্পগুলো একেবারেই উপেক্ষিত। এ জন্য কুটিরশিল্পকে কত ঋণ দিতে হবে, ছোট শিল্পকে কত দিতে হবে, মাঝারি ও বড়দের কত দিতে হবে—এ বিষয়ে লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া দরকার।

জরিপের একটি অংশ ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যে কনফিডেন্স বা আত্মবিশ্বাস পরিস্থিতি নিয়ে। এতে উঠে আসে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাসের প্রক্ষেপণ ছিল ১০০-এর মধ্যে প্রায় ৫৮। এপ্রিল-জুন সময়ের ক্ষেত্রে তা নেমে আসে ৪১-এ। মাত্র ২ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মনে করছে, এই সময়ে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে। করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার জেরেই আত্মবিশ্বাসের সূচক এতটা কমেছে।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন