বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে এবার সিনজেনটা কোম্পানির বীজ কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। সম্প্রতি সরেজমিনে আলাপকালে তাঁরা অভিযোগ করেন, সিনজেনটা নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করে তাঁদের ঠকিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এই কোম্পানির কাছ থেকে কেনা বীজ থেকে আশানুরূপ হারে অঙ্কুরোদগম হয়নি। যেখানে বীজ বপনের ২৫ থেকে ৩২ দিনের মধ্যে চারা বিক্রির উপযোগী হয়, সেখানে এবার লেগেছে ৫০-৭০ দিন।

কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সিনজেনটা কোম্পানির গ্রিন-৬০ নামের বাঁধাকপির বীজ বপন করে আমার প্রতিটা বীজতলায় অন্তত ১০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।’

কৃষক আরশাদ আলী মোড়ল বলেন, ‘দুই গ্রামের ৬২ কৃষকই এবার সিনজেনটা কোম্পানির বীজ ব্যবহার করে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই ক্ষতি আমরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি।’

এ বিষয়ে সিনজেনটা কোম্পানির যশোর এলাকার সেলস ইউনিট লিডার রাকিব হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি জাহিদুল হক বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের কিছু বীজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমস্যার সমাধান করেছি। তা ছাড়া কৃষকেরা যেভাবে বলছেন, সেভাবে ক্ষতি হয়নি। বীজে অঙ্কুরোদগম ঠিকমতো হয়েছে। আবহাওয়ার কারণে হয়তো চারার বৃদ্ধি ভালো হয়নি। সময় বেশি লাগেছে।’

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘কৃষকদের কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ করেননি। তাঁরা অভিযোগ করলে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

কৃষকদের লিখিত অভিযোগের জন্য বসে না থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে আপনারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন, এমন প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা, আমি মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

৪০ বছরের ঐতিহ্য

৪০ বছর আগে যশোর সদর উপজোর আবদুলপুর গ্রামের আরশাদ আলী মোড়ল শীতকালীন সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা উৎপাদন শুরু করেন। তাঁর ভালো লাভ হওয়ায় গ্রামের অন্য কৃষকেরাও চারা উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ হন।

আরশাদ আলী মোড়ল বলেন, ‘আমার ভালো লাভ হতে দেখে গ্রামের অন্য কৃষকেরাও চারা উৎপাদন শুরু করেন।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন