বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ১০০ পণ্য

পণ্যের পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় শিল্পের কাঁচামাল। এই তালিকায় আছে সিমেন্ট ও রড তৈরির কাঁচামাল, পাথর, কয়লা, সয়াবিনবীজ ইত্যাদি। আবার প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা হয়, এমন ভোগ্যপণ্যের মধ্যে গম, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, মসলা রয়েছে।

শীর্ষ ১০০টি পণ্য গত ২০২০–২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে আমদানি হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ টন। চলতি ২০২১–২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে তা শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টন। তবে বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় পণ্যের আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ৪২ শতাংশ।

আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। খাদ্যশস্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় গম। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এই পণ্যটি আমদানিতে গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে টনপ্রতি গড়ে ২৪১ ডলার ব্যয় হয়। এ বছরে একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৪ ডলার। আলোচ্য চার মাসে গম আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৯৬ হাজার টন। এই হিসাবে ১১ কোটি ২৮ লাখ ডলার বাড়তি ব্যয় হয়েছে শুধু গম আমদানিতে। বাড়তি ব্যয়ের এই টাকা দিন শেষে ভোক্তার পকেট থেকেই যাচ্ছে।

ভোজ্যতেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় পাম তেল। এই পণ্যটি গত অর্থবছরের জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রথম চার মাসে গড়ে টনপ্রতি ৬৮০ ডলারে আমদানি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে টনপ্রতি গড়ে ১ হাজার ৯৯ ডলার ব্যয় হয়েছে। তাতে টনপ্রতি ব্যয় বেড়েছে ৪১৯ ডলার। এতে অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে ১৪ কোটি ৪১ লাখ ডলার বা ১ হাজার ২২৫ কোটি টাকা।

গম, তেলের মতো মসুর ডালের দামও বেড়েছে। এই পণ্যের দাম টনপ্রতি ৫৮৮ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৬৩ ডলার। বেড়েছে মটর ডালের দামও।

ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, চাল ছাড়া সব ভোগ্যপণ্য এক বছর আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে আমদানি করতে হচ্ছে।

গত ২০২০–২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকারের গড় আমদানিমূল্য ছিল টনপ্রতি প্রায় ৪৯ ডলারের কাছাকাছি। এ বছরের প্রথম চার মাসে টনপ্রতি ১২ ডলার বেড়ে ৬১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। তাতে চার মাসে সোয়া ছয় কোটি ডলার বাড়তি ব্যয় হয়েছে।

রড তৈরির কাঁচামাল স্ক্র্যাপ বা পুরোনো লোহার টুকরা গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে গড়ে টনপ্রতি ২৭৮ ডলার করে আমদানি হয়। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছে টনপ্রতি ৫১৮ ডলারে। প্রতি টনেই ২৪০ ডলার বা ৮৬ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে।

রডের এই কাঁচামাল চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে আমদানি হয় ১৫ লাখ ৩২ হাজার টন। সেই হিসাবে শুধু এই পণ্যটি আমদানিতে চার মাসে আগের তুলনায় বাড়তি ব৵য় দাঁড়াচ্ছে ৩৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলার বা ৩ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে রডের দাম এক বছরের ব্যবধানে দেশে টনপ্রতি সাড়ে ৫৫ হাজার থেকে বেড়ে ৮০ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে রডের দাম বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।

রডের পাশাপাশি গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে টনপ্রতি ৩২০ ডলারে পুরোনো জাহাজ আমদানি হয়। চলতি অর্থবছরের চার মাসে তা আমদানিতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৬ ডলারে। অর্থাৎ টনপ্রতি দাম বেড়েছে ২৬৬ ডলার বা প্রায় ৮৩ শতাংশ। এ সময়ে ৬ লাখ ৩২ হাজার টনের পুরোনো জাহাজ আমদানি হয়েছে, যাতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার বা ১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।

রড উৎপাদনকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিআরএসএম গ্রুপের ডিএমডি তপন সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, রডের কাঁচামাল ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। বিশ্ববাজারে যেভাবে দাম বাড়ছে, তাতে স্থানীয় বাজারে দামও সমন্বয় করতে হচ্ছে।

আমদানি ব্যয় বাড়ছে

বিশ্ববাজারে দাম বাড়তে থাকায় বাংলাদেশে আমদানি ব্যয় কেমন বাড়ছে, তা পর্যালোচনার জন্য শীর্ষ ১০০টি পণ্যের আমদানি ব্যয় পর্যালোচনা করেছে প্রথম আলো। তাতে দেখা গেছে, শীর্ষ ১০০টি পণ্য আমদানিতে গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের (জুলাই–অক্টোবর) তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ২২২ কোটি ডলার বাড়তি ব্যয় হয়েছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম সংশোধিত না হলে অর্থবছর শেষে বাড়তি ব্যয় ৮ বিলিয়ন বা ৮০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি অবশ্য পণ্যের আমদানির ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গত ২০২০–২১ অর্থবছরে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের মোট ব্যয় হয়েছিল ৫ হাজার ৭২৫ কোটি ডলার।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন