সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিপিজিএমইএর সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, ‘আসন্ন বাজেটে প্লাস্টিকশিল্পের মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহার কমিয়ে ১ থেকে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে, যা বর্তমানে ৫ শতাংশ। তবে আমাদের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে অগ্রিম আয়কর (এআইটি)। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তুতকৃত পণ্য বিক্রি করার আগে ৭ শতাংশ হারে এআইটি দিতে হচ্ছে। তাই নতুন বাজেটে এআইটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

সামিম আহমেদ প্লাস্টিকশিল্পের একটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘এই খাতে বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার ৩০টির বেশি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব কোম্পানি বছরে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। আর এই খাত থেকে সরকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পায়। কিন্তু অন্যান্য রপ্তানি খাতের মতো সহায়তা আমরা পাচ্ছি না।’

বিপিজিএমইএ নেতারা প্লাস্টিকসহ রপ্তানিমুখী সব খাতের জন্য করপোরেট আয়কর কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবি করেন। এ ছাড়া পলিইথিলিনের তৈরি সব ধরনের পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক ব্যাগ (ওভেনসহ) ও মোড়কসামগ্রীর ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার চান তাঁরা।

স্থানীয় শিল্প রক্ষার স্বার্থে আমদানি পর্যায়ে তৈরি প্লাস্টিক পণ্যে সম্পূরক শুল্ক উচ্চতর হারে বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সর্বোচ্চ করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। বর্তমানে আমদানি পর্যায়ে তৈরি প্লাস্টিক পণ্যে আরোপিত সম্পূরক শুল্কহার ৪৫ শতাংশ। দেশে উৎপাদিত প্লাস্টিকের খেলনাসামগ্রীর ওপর আরোপ করা ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার চায় বিপিজিএমইএ। দেশীয় শিল্প টিকিয়ে রাখতে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের সংশোধনের প্রস্তাব করেন বিপিজিএমইএর নেতারা। তাঁরা রি-সাইক্লিং দানা থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট আগামী ১০ বছরের জন্য প্রত্যাহারের দাবি করেন।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, দেশে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে কারখানা পর্যায়ে দূষণের কোনো ঘটনা ঘটে না। তবে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের পর অব্যবস্থাপনার কারণে এটা পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্য আসন্ন বাজেটে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আলাদা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি এ এস এম কামাল উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, ফেরদৌস ওয়াহিদ, সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন