default-image

করোনাকালে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি বেড়েছে। এর মধ্যে পোশাকপণ্যও রয়েছে। সে অনুযায়ী রাজশাহী রেশম কারখানায় উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী অনলাইনে বিক্রির জন্য ছয় মাস আগে একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়। কিন্তু অনলাইনে একটি ফরমাশও পাওয়া যায়নি।

লকডাউনে রেশম কারখানার বিক্রয়কেন্দ্রেও বিক্রি কমেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে পণ্য বিক্রির লক্ষ্যে বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও মহাপরিচালকের কার্যালয়গুলোতে চিঠি দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ১০ শতাংশ ছাড়ে রেশম পণ্য কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাতে অবশ্য বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, মুক্তবাজারের যুগে বেসরকারি পর্যায়ে বৈচিত্র্যময় নকশায় তৈরি মানসম্পন্ন পণ্যের সঙ্গে রেশম কারখানার পণ্যের প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই নকশায় বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি পণ্যের মান বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার বিকল্প নেই।

রাজশাহী রেশম বোর্ডের উৎপাদন কর্মকর্তা এবং কারখানার ব্যবস্থাপকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনলাইনে পণ্য বিক্রি করতে একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাসেও কোনো ফরমাশ পাইনি। এখনো সাইটটি চালু আছে।’ তিনি জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে রেশম কারখানাকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এ জন্য পণ্যের মানোন্নয়ন ও নতুন নতুন নকশা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, রাজশাহী রেশম কারখানায় শতভাগ দেশি সুতা দিয়ে কাপড় তৈরি করা হয়। এ কাপড়ের পোশাক গরমের সময় গায়ে একটু শীতল আর শীতের সময় একটু উষ্ণ অনুভব হয়। তাই দামটা বেসরকারি কারখানায় উৎপাদিত রেশম পণ্যের চেয়ে একটু বেশি।

সরকারি রেশম কারখানার পণ্য কেনার ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলার প্রশাসক আবদুল জলিল জানান, অতিথি এলে কাপড় ও পোশাকপণ্য কিনে তাঁদের উপহার দেওয়া হয়। তবে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি কিনতে না চান, তাঁকে তো আর জোর করা যায় না। কেনার ক্ষেত্রে পছন্দেরও একটা ব্যাপার থাকে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে টিকতে হলে রাজশাহী রেশম কারখানার পণ্যে গুণ-মান আরও বাড়াতে হবে।

২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার রাজশাহী রেশম কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। ১৬ বছর পর ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে এ কারখানার পাঁচটি লুম চালু করা হয়। পরে চালু করা হয় আরও ১৪টি। মোট ১৯টি লুমের মধ্যে বর্তমানে ১৪টি উৎপাদনে রয়েছে। তাতে গত মাসে (মার্চ) ১ হাজার ৩৪৬ গজ কাপড় উৎপাদন হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লাখ টাকার কাপড় বিক্রি হয়েছে। এখন ২০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের কাপড় মজুত রয়েছে।

রেশম কারখানার বিক্রয়কেন্দ্রটিও আবার চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এটির দায়িত্বে আছেন রেশম বোর্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক (সম্প্রসারণ) আকলিমা খাতুন। এখন লকডাউনের কারণে কেন্দ্রটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি বিক্রয়কেন্দ্রে আকলিমা খাতুনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ দেশি সুতায় তৈরি বলে রেশম কারখানার কাপড় ও পোশাকপণ্যের দাম একটু বেশি। বিক্রয়কেন্দ্রটি থেকে দিনে তিন-চারটি করে শাড়ি এবং অন্যান্য পোশাকের কাপড় বিক্রি হয়ে থাকে। তবে কোনো কোনো দিন কিছুই বিক্রি হয় না।

সরকারি রেশম কারখানায় উৎপাদিত প্রতিটি গরদ শাড়ি সাড়ে ৮ হাজার টাকা, প্রিন্টের শাড়ি সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা, মুজিব কোট ২ হাজার ৬৫০ টাকা, তৈরি টাই ৭০০ টাকা, টু-পিস ৩ হাজার ৮৯০ টাকা, ওড়না ও হিজাব ১ হাজার ৯২৫ টাকা, স্কার্ফ ৯৫০ টাকা এবং প্রতি গজ টাইয়ের কাপড় ১ হাজার ৫২০ টাকা, সাধারণ ডুপিয়ান সাটিন ৮৫০ টাকা ও টাইডাই ডুপিয়ান সাটিন ৯০০ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

এ কারখানা বন্ধ হওয়ার বহু বছর পরে খোলার উদ্যোগ নেন রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে পণ্যের মানোন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে প্রথম আলোকে বলেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রাজশাহী রেশম কারখানায় উৎপাদিত পণ্যও জনপ্রিয় হবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকবে।

বিজ্ঞাপন
শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন