default-image

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ বুধবার ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এফবিসিসিআই থেকে আমার কাছে কোনো প্রস্তাব আসেনি। কেউ আমার সঙ্গে দেখা করেনি, কোনো আলোচনাও করেনি। এ সম্বন্ধে আমি জানি না। যখন জানব, তখন বলব।’

জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই গত রোববার পর্ষদ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ব্যাংকের পাশাপাশি বিমা, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও করতে চায় সংগঠনটি। তার আগেই সরকারের উচ্চ মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এফবিসিসিআইয়ের শীর্ষ নেতারা। সেখান থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার পরই পর্ষদ সভায় তোলা হয়।

ওই দিন বৈঠকের পর এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম প্রথম আলোকে বলেছিলেন, সভায় এফবিসিসিআইয়ের নিজস্ব ব্যাংক, বিমা, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হবেন। ব্যাংকটি থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তারা অল্প খরচে ও সহজে ঋণ পাবেন। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে পরিচালনা করা হবে এই ব্যাংক। এতে ঋণ বিতরণের খরচও কমবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ২০১২ সালে ৯টি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিতে চায়নি। অর্থনীতিবিদেরাও এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, রাজনৈতিক কারণে ব্যাংকের লাইসেন্স দিতে হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ৬১টি ব্যাংক চালু আছে। এর মধ্যে ৪৩টিরই মালিক ব্যবসায়ীরা। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ছিলেন—এমন ব্যবসায়ীদের মধ্যে সালমান এফ রহমান বর্তমানে আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এ কে আজাদ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক, মীর নাসির হোসেন ইস্টার্ণ ব্যাংকের পরিচালক এবং আবদুল আউয়াল মিন্টু ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান। এ ছাড়া ব্যবসায়ীনেতাদের অনেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাংক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ২০১২ সালে ৯টি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিতে চায়নি। অর্থনীতিবিদেরাও এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, রাজনৈতিক কারণে ব্যাংকের লাইসেন্স দিতে হয়েছে।

তারপরও অনুমোদন পাওয়া সব ব্যাংকই পান সরকার-সমর্থিত ব্যক্তিরা। এরপর একে একে অনুমোদন দেওয়া হয় সীমান্ত ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও সিটিজেন ব্যাংক। এ ছাড়া পিপলস ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষের দিকে। আগামী মাসেই নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নিতে পারেন।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন