বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানিতে কনটেইনার পরিবহনের ভাড়া ঠিক করেন বিদেশি ক্রেতারা। ফলে এখন বাড়তি ভাড়ার টাকা তাদের পকেট থেকেই যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান আরআইএফ লাইন এবং এটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্যালিপসো কোম্পানিয়া ডি নেভিগেশন নতুন এই সেবা চালু করেছে। মূলত ইতালির ক্রেতাদের সহযোগিতায় ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানটি এই সেবা চালু করেছে।

জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ প্রথম আলোকে বলেন, সুয়েজ খাল হয়ে ইতালির সিভিটাভিসিয়া বন্দর থেকে ১৬ দিনে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। খালি কনটেইনার খালাস করে জাহাজটি চীন থেকে পণ্যভর্তি কনটেইনার নিয়ে ইতালিতে ফেরত যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আবারও খালি কনটেইনার এনে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার নেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই সেবার মাধ্যমে কম সময়ে রপ্তানি পণ্য ইউরোপে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

এ উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে পোশাকশিল্প। কারণ, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ৬০ শতাংশ ইউরোপের দেশগুলোতে যায়। এই উদ্যোগের ফলে এখন ইউরোপে আগের চেয়ে অন্তত সাত-আট দিন কমে বিদেশি ক্রেতাদের হাতে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। কারণ, ক্রেতারা দ্রুত পণ্য নিতে চায়। এই উদ্যোগ সফল হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে দেশের পোশাকশিল্প।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চলাচল করে মূলত সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, মালয়েশিয়ার তানজুম পালাপাস ও কেলাং এবং চীনের কয়েকটি বন্দরের মধ্যে। এসব বন্দর হয়ে রপ্তানি পণ্য ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে যায়। একইভাবে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার এসব দেশের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়। এ ছাড়া ভারতের কয়েকটি বন্দরে অনিয়মিত কনটেইনার পরিবহন সেবা রয়েছে। মূলত চট্টগ্রাম বন্দরে বড় জাহাজ ভিড়ানোর সুযোগ না থাকায় বিশ্বের বড় বড় বন্দরের সঙ্গে কনটেইনার জাহাজ চলাচল করেনি। এখন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ও সময় বেশি লাগায় ছোট জাহাজে কনটেইনার পরিবহনে সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

শিপিং সূত্রে জানা গেছে, এমভি ক্যাপ ফ্লোরেস জাহাজটি ১ হাজার ২০০ একক কনটেইনার পরিবহনে সক্ষম। বন্দরে এখন ২ হাজার ৮০০ একক কনটেইনার পরিবহনের সক্ষম জাহাজ চলাচল করছে। একসঙ্গে এক জাহাজে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কনটেইনার পরিবহনের রেকর্ড আছে বন্দরটিতে।

বিদেশি ক্রেতাদের প্রতিনিধি হিসেবে রপ্তানি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ইতালির পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলোতে এই সেবা ছড়িয়ে দেওয়া গেলে রপ্তানি পণ্য পরিবহনে অন্তত আট-দশ দিন সময় সাশ্রয় হবে। এখন চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে বড় জাহাজে জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য যে প্রতিযোগিতা, তা করতে হবে না। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী খাতকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন