default-image

অবশেষে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬ পাটকলের মধ্যে ১৭টি ইজারার মাধ্যমে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে পাটকলটির চাকা বন্ধ হওয়ার ১০ মাস পার হয়েছে। অনেক শ্রমিক এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝে পাননি।
বিজেএমসি গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। আগ্রহীদের প্রয়োজনে পাটকল পরিদর্শনের সুযোগও দেবে সংস্থাটি। পরবর্তী সময়ে স্বল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চাওয়া হবে।

বিজেএমসি প্রথম দফায় আন্তর্জাতিক দরপত্রে ১৭টি পাটকল ইজারা দিতে চায়। সেগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের হাফিজ জুট মিলস, গুল আহমেদ জুট মিলস, কেএফডি জুট মিলস, এমএম জুট মিলস, আরআর জুট মিলস; ঢাকা অঞ্চলের ইউএমসি জুট মিলস, বাংলাদেশ জুট মিলস, রাজশাহী জুট মিলস, জাতীয় জুট মিলস এবং খুলনা অঞ্চলের প্লাটিনাম জুবেলি জুট মিলস, ক্রিসেন্ট জুট মিলস, ইস্টার্ন জুট মিলস, খালিশপুর জুট মিলস, দৌলতপুর জুট মিলস, স্টার জুট মিলস, যশোর জুট মিলস ও কার্পেটিং জুট মিলস।

বছরের পর বছর লোকসান গুনতে থাকা সরকারি পাটকলগুলো গত বছরের ১ জুলাই শ্রমিকদের স্বেচ্ছা অবসরে পাঠিয়ে বন্ধ করে দেয় বিজেএমসি। তখন পর্যন্ত করপোরেশনের ২৬টি পাটকলের মধ্যে চালু ছিল ২৫টি। এর মধ্যে ২২টি পাটকল ও ৩টি নন-জুট কারখানা। তার আগে ১৯৯০ সালের পর বিশ্বব্যাংকের পাট খাত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ১১টি পাটকল বন্ধ, বিক্রি ও একীভূত করা হয়। ২০০২ সালের জুনে বন্ধ করা হয় আদমজী জুট মিল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে গতকাল ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমন্বয় সভায় অংশ নিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য বিজেএমসির বন্ধ পাটকলগুলো দ্রুততম সময়ে ভাড়া বা ইজারায় চালু করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা ইজারা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকে (এফডিআই) অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দুনিয়াজুড়ে পাটের কদর ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটচাষিরা বর্তমানে কাঁচা পাটের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। ফলে পাটচাষিরা পাট চাষে আরও আগ্রহী হচ্ছেন।

পাটমন্ত্রী জানান, কয়েকটি পাটকলের শ্রমিকদের গত আগস্ট মাসের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ও অবসানকৃত ৩৪ হাজার ৭৫৭ জন স্থায়ী শ্রমিকের ২ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে পাওনার ক্ষেত্রে অর্ধেক নগদে ও অর্ধেক তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ইস্যুর মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১টি মিলের সব কটিতে নগদ অংশ পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগ ১ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ছাড় করেছে। এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৭৫৭ জন শ্রমিককে ১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। মামলা, নিরীক্ষা আপত্তি, নামের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের গরমিল, ব্যাংক হিসাব না থাকা প্রভৃতি কারণে বাকিদের অর্থ পরিশোধ হয়নি। তবে তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন