default-image

ভাবমূর্তি উন্নয়ন, ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কমানো ও সহজীকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ব্যবসা থেকে প্রস্থান নীতি প্রণয়ন, পণ্যের দাম ও ক্রেতার জবাবদিহি নিশ্চিত, শিল্পের নিরাপত্তা ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়ানো, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যাত্রা শুরুর আগে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, শ্রমিককল্যাণ ও স্বচ্ছ–পরিচ্ছন্ন বিজিএমইএ গঠনের মাধ্যমে টেকসই পোশাকশিল্প গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট ফোরাম।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ২০২১-২৩ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা করেছে ফোরাম। প্যানেলটির পক্ষে নির্বাচনের প্রার্থী ও বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের দলনেতা এ বি এম সামছুদ্দিন, প্রার্থী এম এ রহিম, ফয়সাল সামাদ, আসিফ ইব্রাহিম, মাহমুদ হাসান খান প্রমুখ।

শুরুতে ফোরামের দলনেতা এ বি এম সামছুদ্দিন বলেন, পোশাকশিল্পের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তৈরি পোশাকের দাম কমছে, রপ্তানিও কমছে। দুর্বল চুক্তিপত্রের সুবিধা নিচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা। পোশাক রপ্তানির পর আবার অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। এসব সমস্যা সমাধান করতে হলে বিজিএমইএর আগামী পর্ষদকে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি উন্নয়ন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ভার কমানো ও বাজার সম্প্রসারণে সবচেয়ে বেশি জোর দেবে ফোরাম।

বিজ্ঞাপন

ইশতেহারে ফোরাম বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের অর্জন ও চলমান কাজের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দিয়েছে। সম্মিলিত পরিষদের ইশতেহারের মতো ফোরামও সাধারণ সদস্যদের ভোট টানতে প্রণোদনার ঋণের অর্থ পরিশোধে ৩ বছরে ৩০ কিস্তি সুবিধার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও দাবি করেছেন ফোরাম নেতারা।

ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কমানো ও সহজীকরণ করার ক্ষেত্রে ফোরাম রপ্তানির জন্য স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত সব পণ্য বা সেবায় ভ্যাট মওকুফ, আগামী পাঁচ বছর রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ বলবৎ রাখা, নগদ সহায়তার ওপর আয়কর কর্তন বন্ধ করা, লাইসেন্স নবায়নের সময়সীমা পাঁচ বছরে উত্তীর্ণ করা, প্যাকিং ক্রেডিটের সুদহার কমানো ইত্যাদির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার জন্য নগদ সহায়তা ৫ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করা, কারখানা নির্মাণে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগে ফাস্ট ট্র্যাক সেবা প্রদান, কারখানা স্থাপনের সুদের হার ৫০ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নির্বাচনকেন্দ্রিক এই জোট।

ইশতেহারে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ক্রয়াদেশ চুক্তিপত্রের একটি মানসম্মত পদ্ধতি তৈরি, ক্রেতার চুক্তিপত্র পরীক্ষা করে দেওয়ার সেবা প্রদান এবং ক্রেতাদের জবাবদিহি ও মূল্যায়নের পদ্ধতি প্রবর্তন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফোরাম। এ ছাড়া বিজিএমইএর পরিচালকদের তিন মাস পর পর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজির (বিইউএফটি) ট্রাস্টি বোর্ডের পুনর্গঠন, অনলাইনে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা।

ইশতেহার নিয়ে রুবানা হক বলেন, ‘আমরা ১৩ জায়গায় নজর দিয়েছি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’ বর্তমান পর্ষদের গত দুই বছরের মূল্যায়ন নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের যুদ্ধে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। সে জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সেভাবে করা যায়নি। তার ওপর করোনা আমাদের অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। ব্যবসা থেকে প্রস্থান নীতিমালা করতে না পারাটা আমাদের পর্ষদের দুর্বলতা।’

আগামী ৪ এপ্রিল রোববার বিজিএমইএর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫ পরিচালক পদে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের ৭০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ভোট দেবেন ২ হাজার ৩১৩ তৈরি পোশাকশিল্প মালিক। তাঁদের মধ্যে ঢাকার ১ হাজার ৮৫২ ও চট্টগ্রামের ৪৬১ জন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন