বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অবশ্য অনেক পোশাক কারখানাই ইতিমধ্যে শ্রমিকদের উৎসব ভাতা দিয়েছে। সেই তুলনায় চলতি মাসের অর্ধেক মজুরি দেওয়ার হার এখনো কম। কারখানাগুলো এখন মজুরি বা বোনাস দিচ্ছে। যেটি বাকি থাকবে, সেটি ঈদের ছুটির আগে দেওয়া হবে বলে জানান কয়েকজন পোশাকশিল্প মালিক।

শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা ও কুমিল্লায় প্রায় ৯ হাজার ১৭৬টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র কারখানা কমপক্ষে ২ হাজার ৬৮৮টি। এর মধ্যে ৩৭টি এখনো গত মার্চের মজুরি দেয়নি।

আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা ও কুমিল্লার ২ হাজার ৬৮৮ পোশাক কারখানার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত উৎসব ভাতা দিয়েছে ৪১ শতাংশ বা ১ হাজার ১০৪টি। এসব এলাকায় বিজিএমইএর ১ হাজার ৬১৫টি সদস্য কারখানার মধ্যে ৮২৭টি, বিকেএমইএর ৬৮৫টির মধ্যে ৪৯৮টি ও বিটিএমএর ৩৩৮টির মধ্যে ২০৯টি এখনো উৎসব ভাতা পরিশোধ করেনি।

এদিকে উৎসব ভাতার তুলনায় চলতি মাসের ১৫ দিনের মজুরি পরিশোধের হার একেবারেই নগণ্য। যেমন ২ হাজার ৬৮৮ পোশাক কারখানার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মাত্র ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বা ৭৫টি কারখানা মজুরি দিয়েছে। বিজিএমইএর ১ হাজার ৫৮০, বিকেএমইএর ৬৫৪ ও বিটিএমএর ৩২৯টি কারখানা এখনো মজুরি পরিশোধ করেনি।

বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, ‘কারখানাগুলো বেতন-ভাতা দিতে শুরু করেছে। আটটি কারখানার বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে ঝামেলা ছিল। একটির সমস্যার সমাধান হয়েছে। বাকিগুলো নিয়ে এখনো কাজ করছি। আশা করছি, বেতন-ভাতা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হবে না। ‘অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী শুক্রবার থেকে অধিকাংশ কারখানা ছুটি দেবে।

১১ এপ্রিল রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৭১ এবং তৈরি পোশাক খাত নিয়ে টিসিসির ১২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয়, তৈরি পোশাকশিল্পসহ রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সব খাতের শ্রমিকদের ঈদের বোনাস ও চলতি মাসের অন্তত ১৫ দিনের বেতন পরিশোধ করবেন মালিকেরা। একই সঙ্গে যদি কোনো কারখানার বেতন-ভাতা বকেয়া থাকে সেগুলোও ঈদের ছুটির আগেই মালিকদের পরিশোধ করতে হবে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিট কারখানাগুলোতে কাল (আজ মঙ্গলবার) থেকে বেতন-ভাতা প্রদান শুরু হবে। তবে শতাধিক কারখানা আর্থিক সমস্যায় আছে। কারণ, ক্রয়াদেশ থাকলেও গত দুই মাস গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার কারণে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করতে পারেনি। সে জন্য ব্যাংকেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই অর্থ পাচ্ছে না। তারপরও যে যেভাবে পারছে বেতন-ভাতা পরিশোধের চেষ্টা করছে।’

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে তৈরি পোশাক খাত বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। এতে প্রবৃদ্ধি হয় ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) প্রায় গত বছরের কাছাকাছি রপ্তানি হয়েছে, যা পরিমাণে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ডলার। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৩ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি।

শ্রমিকনেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বড় কারখানাগুলো মূল মজুরির শতভাগ অর্থ ঈদ বোনাস হিসেবে দিয়েছে। মাঝারি কারখানাগুলো মূল মজুরির ৫০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বোনাস দিচ্ছে। তবে অনেকগুলো ছোট ও সাবকন্ট্রাকন্টিং কারখানায় বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে সমস্যা রয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, প্রতি ঈদের আগেই বেতন-ভাতা নিয়ে কিছু কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন করতে হয়। এটি বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন