ইউক্রেনে রুশ হামলা
উদ্বিগ্ন পোশাক রপ্তানিকারকেরা
ইউক্রেনের আশপাশের ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে পুরো পোশাকশিল্পের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনের বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত দুই অঞ্চলে সেনা অভিযান শুরু করেছেন রুশ সেনারা। বেশ কয়েক দিন উত্তেজনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই দেশটির স্থল, আকাশ ও নৌপথে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনে রুশ হামলায় কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিকারকদের, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের।
পোশাক খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা বললেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজার ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য। সেই তুলনায় ইউক্রেনে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম। তবে রাশিয়ার বাজার মাঝারি আকারের। যুদ্ধের কারণে এই দুই বাজারের রপ্তানি স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাতে আর্থিকভাবে লোকসানে পড়বেন অল্পসংখ্যক রপ্তানিকারক। তবে যুদ্ধের সঙ্গে যদি ইউক্রেনের আশপাশের ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পুরো পোশাকশিল্পের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৬০-৬১ শতাংশের গন্তব্য ইইউভুক্ত দেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। তার মধ্যে রাশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৫৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক, দেশীয় মুদ্রায় যা ৫ হাজার ৭৪ কোটি টাকার সমান। অন্যদিকে ইউক্রেনে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ডলারের বা ১০০ কোটি টাকার তৈরি পোশাক।
জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘যুদ্ধ কখনই সুসংবাদ নয়। ইতিমধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের পণ্যের ওপরই কমবেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, পোশাক রপ্তানিতে এখনো সরাসরি যুদ্ধের প্রভাব পড়েনি। তবে ইউক্রেনে রুশ হামলায় আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ, যুদ্ধ যদি আশপাশের দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ, ইউক্রেনের পাশেই জার্মানি ও পোল্যান্ডের মতো বড় বাজার রয়েছে।
স্থল ও সমুদ্রপথে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর ইউক্রেনের বন্দরগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শস্য ও তেলবীজের রপ্তানিকারক দেশটি থেকে পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর আগে ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যবর্তী আজভ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করে রাশিয়া। খবর সিএনএনের।
এদিকে করোনার প্রভাব কাটিয়ে বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানি। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি।
এই ধারাবাহিকতায় রাশিয়াতেও রপ্তানি বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশটিতে ৪১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে ইউক্রেনের বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়ছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৭৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৬৪ লাখ ডলারের পোশাক।
তৈরি পোশাক ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় প্লাস্টিক, চামড়া, জুতা, সিরামিক, খেলনা, ম্যাট্রেস, হিমায়িত খাদ্য, পাট ইত্যাদি রপ্তানি হয়। আর ইউক্রেনে পোশাকের বাইরে ওষুধ, প্লাস্টিক, জুতা, ম্যাট্রেস, খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্য যায়।
জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম প্রথম আলোকে বলেন, রাশিয়ার তৈরি পোশাকের বাজার প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলারের। এই বাজারে আমাদের হিস্যা বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেটি কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হবে।