প্রথম আলো: আপনাদের কোম্পানির মোটরসাইকেল উৎপাদন পরিস্থিতি কী?

বিপ্লব কুমার রায়: ২০১৮ সাল থেকে আমরা বাংলাদেশে টিভিএস মোটরসাইকেল উৎপাদন করছি। মিরপুরে তাবানি বেভারেজের কারখানা ইজারা নিয়ে সেখানে দুই চাকার যান তৈরি করছি। দুই পালায় (শিফট) দিনে আমাদের মোটরসাইকেল উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় এক হাজার। তবে মাসে আমরা সারা দেশে গড়ে ১২ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি করি। সেই অনুযায়ী, আমরা উৎপাদন করি।

প্রথম আলো: বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের বাজার বড় হচ্ছে না কেন?

বিপ্লব কুমার রায়: বর্তমানে বছরে সাড়ে পাঁচ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয় দেশে। এটি খুব সহজেই ১০ লাখে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। মূল সমস্যা হচ্ছে, খুচরা পর্যায়ে ঋণ সুবিধা পাওয়া যায় না। কারণ, আমাদের মোটরসাইকেল ক্রেতাদের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষই বেশি। এ জায়গায় নীতিসহায়তা দিয়ে ব্যাংকগুলোকে যদি ঋণ দেওয়ায় উদ্বুদ্ধ করা যায়, তাহলে বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের বাজার দ্রুত বাড়ানো সম্ভব।

প্রথম আলো: মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ তৈরিতে দেশে সংযোগশিল্প গড়ে তোলার বিষয়ে আপনাদের কোনো উদ্যোগ কী আছে?

বিপ্লব কুমার রায়: আমি আগেই বলেছি, বর্তমানে আমাদের দেশে বার্ষিক মোটরসাইকেলের চাহিদা সাড়ে পাঁচ লাখ। এই অল্পসংখ্যক চাহিদা দিয়ে যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা লাভজনক হবে না। সব কোম্পানি মিলে এক শর বেশি মডেলের মোটরসাইকেল উৎপাদন করে। একেকটি মডেলের মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশও ভিন্ন ভিন্ন। আমরা বর্তমানে দেশে উৎপাদিত ব্যাটারি ব্যবহার করছি। সিট (আসন) ও ফিল্টার উৎপাদন করার জন্য ভারতের একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে কারখানা করতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে সিট তৈরির কারখানা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে সিট ও ফিল্টারের অংশবিশেষ স্থানীয় কোম্পানিতে উৎপাদন করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন