পর্যটনসুবিধায় এক দশক আগে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এসব গাড়ি এনেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পর্যটকেরা। সাধারণত পর্যটনসুবিধায় গাড়ি আনলে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়, তবে তা আবার ফেরত নেওয়ার শর্তও থাকে। অতীতে এ সুবিধায় আনা অনেক গাড়ি ফেরত নেওয়া হয়নি। সে জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার রোধে ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে খালাসের শর্ত আরোপ করে কাস্টমস। তখন খালাস না নিয়ে সটকে পড়েন অনেক পর্যটক। এরপর দফায় দফায় নিলামে তোলা হলেও এসব গাড়ি বিক্রি হয়নি।

দীর্ঘদিনের এই জট সরাতে উদ্যোগ নেন কাস্টমস কমিশনার মো. ফখরুল আলম। তাতে এ বছরের শুরুতে প্রথম দফায় তিনটি গাড়ি বিক্রি হয়। আর এবার বিক্রি হলো ৩৪টি। তাতে সব মিলিয়ে ৩৭টি গাড়ি বিক্রি হলো। এক দশকের বেশি সময় ধরে খোলা ও কনটেইনারের ভেতর পড়ে থেকে প্রায় অকেজো হওয়ার পথে ছিল জরাজীর্ণ এসব গাড়ি। নিলামে বিক্রি করায় সরকারের যেমন রাজস্ব আয় হয়েছে, তেমনি বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাও খালি হয়েছে।

১০ ব্র্যান্ডের গাড়ি

নিলামে বিক্রি হওয়া গাড়িগুলো ১০ ব্র্যান্ডের। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে রেঞ্জ রোভার, মার্সিডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, জাগুয়ার, লেক্সাস, ফোর্ড, টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার, চেরোকি, হোন্ডা ও মিতসুবিশি। নিলামে বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের ১০টি, মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের ৮টি, হোন্ডা ও রেঞ্জ রোভার ব্র্যান্ডের ৩টি গাড়ি রয়েছে। অন্য ব্র্যান্ডের এক–দুটি করে গাড়ি রয়েছে।

নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে পুরোনো গাড়িটি ২৭ বছরের পুরোনো। মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের গাড়িটি ২ হাজার ৪৯৭ সিসির। চাবি নেই। ব্যাটারি ও চাকা নষ্ট। এই গাড়ি মূসক, অগ্রিম আয়করসহ ১৮ লাখ ২১ হাজার টাকায় পাচ্ছেন নরসিংদীর মো. নাহিদ হাসান। সবচেয়ে কম পুরোনো তিনটি গাড়ি ১৫ বছরের পুরোনো। এর মধ্যে ফোর্ড ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি ১০ লাখ ৮৬ টাকায় পাচ্ছে চট্টগ্রামের আলিফা এন্টারপ্রাইজ। সবচেয়ে কম পুরোনো হলেও গাড়িটির ইঞ্জিনে মরিচা ধরেছে। চাকা–ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি দর পাওয়া গেছে রেঞ্জ রোভার ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির। ২০০৫ সালে তৈরি এই গাড়ি ৪ হাজার ৩৯৪ সিসির। গাড়িটি এক দশক ধরে বন্দরে একটি কনটেইনারের ভেতর পড়ে ছিল। গাড়িটির ব্যাটারি ও চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। অগ্রিম আয়কর, মূসকসহ ৭২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে গাড়িটি। ১৮ বছরের পুরোনো হোন্ডা ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি বিক্রি হয়েছে সাড়ে আট লাখ টাকায়। গাড়িটির ব্যাটারি ও চাকা নষ্ট। গাড়িটির সিসি কত, তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নিলাম কমিটির সদস্য কাস্টমসের উপকমিশনার মো. আল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, পর্যটনসুবিধায় আনা গাড়ি বিক্রিতে এখন কোনো জটিলতা নেই। যৌক্তিক দর না পাওয়ায় ৭৪টি গাড়ি আবার নিলামে তোলা হবে। আগ্রহী যে কেউ নিলামে অংশ নিতে পারবেন।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন