default-image

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ার্লপুল করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকম গ্রুপ। এই চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি যৌথভাবে নরসিংদীতে রেফ্রিজারেটর উৎপাদনের একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারখানা স্থাপন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান থেকে ওয়ার্লপুল করপোরেশন এবং ঢাকা থেকে ট্রান্সকম গ্রুপের যৌথ এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল সোমবার এ খবর জানানো হয়। এতে বলা হয়, কারখানাটির আয়তন হবে প্রায় ৮৫ হাজার বর্গফুট (২৬ হাজার বর্গমিটার)। এই কারখানায় ওয়ার্লপুল করপোরেশনের বিশ্বমানের উৎপাদন মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া ট্রান্সকম গ্রুপের উচ্চমানের পণ্য উৎপাদন ও ব্যবসায়িক উৎকর্ষের যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা–ও ধরে রাখা হবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যৌথ উদ্যোগের কারখানায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন মডেলের রেফ্রিজারেটর উৎপাদন করা হবে। এসব রেফ্রিজারেটর ওয়ার্লপুল ব্র্যান্ড এবং ট্রান্সকমের নিজস্ব ব্র্যান্ডের নামে বাজারে ছাড়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্লপুল করপোরেশন গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৭০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। বিশ্বজুড়ে ওয়ার্লপুলের ৫৯টি উৎপাদন ও প্রযুক্তি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৭৭ হাজার।

ওয়ার্লপুল করপোরেশন বিশ্বজুড়ে প্রায় সব দেশে ওয়ার্লপুল, কিচেনএইড, মেট্যাগ, কনসাল, ব্রেস্টেম্প, আমানা, জেনএয়ার, ইনডেসিটসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে পণ্য বাজারজাত করে থাকে।

বিজ্ঞপ্তিতে ওয়ার্লপুলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ওয়ার্লপুল এশিয়ার প্রেসিডেন্ট স্যামুয়েল উ বলেন, ‘বাংলাদেশ ওয়ার্লপুল করপোরেশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি উদীয়মান। এখানে আমরা ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় সুযোগ দেখছি। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের বাজার নিয়ে আমাদের উচ্চাশাই তুলে ধরছি।’

স্যামুয়েল উ আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি জোরদারে এবং অত্যাধুনিক কারখানা প্রতিষ্ঠায় ট্রান্সকমকে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পেয়ে আমরা কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে এই কারখানা উচ্চমানের রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে সক্ষম হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রান্সকম গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ, বৈচিত্র্যপূর্ণ ও দ্রুত বর্ধনশীল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। ট্রান্সকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান নৈতিক মূল্যবোধ ও ব্যবসায়িক উৎকর্ষের ভিত্তিতে এই গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। উচ্চমানের পণ্য উৎপাদন এই গ্রুপের মূল শক্তি। ট্রান্সকম গ্রুপের ব্যবসা আটটি খাতে বিস্তৃত—ওষুধ, পানীয়, খাদ্য, সংবাদমাধ্যম, ভোগ্যপণ্য, বিমা, ইলেকট্রনিকস ও চা। বিশ্বের ৫৪টি দেশে ট্রান্সকমের ব্যবসায়িক উপস্থিতি রয়েছে এবং এই গ্রুপের কর্মীর সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি।

বিজ্ঞাপন

ওয়ার্লপুলের সঙ্গে অংশীদারত্বের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রসরমাণ অর্থনীতি ও দ্রুত নগরায়ণ এখানে বিশ্বমানের গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ওয়ার্লপুল করপোরেশনের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি হবে ওয়ার্লপুলের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রথম বৈশ্বিক যৌথ উদ্যোগ।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই কারখানা যেমন রেফ্রিজারেটর উৎপাদনের সেরা প্রযুক্তি উপহার দেবে, তেমনি দেশের মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে।

সিমিন রহমান আরও বলেন, ‘এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশে ওয়ার্লপুল করপোরেশনের উপস্থিতি জোরদার করবে। পাশাপাশি গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম খাতে ব্যবসা জোরদারে আমাদের জন্যও সহায়ক হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওয়ার্লপুল করপোরেশন প্রতিটি পরিবারের জন্য উপযোগী এবং বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী পণ্য উৎপাদন করে। ওয়ার্লপুল ও ট্রান্সকমের যৌথ উদ্যোগ এই শিল্প নতুন এক মানদণ্ড সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হবে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন