করোনার ক্ষতি অনেকটাই পোষাতে পেরেছি আমরা

দেশেই গ্রির এসি ও কনকার ফ্রিজ উৎপাদন করছে ইলেকট্রোমার্ট। দেশের বাজারের পাশাপাশি কয়েক বছরের মধ্যে রপ্তানির পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ইলেকট্রোমার্ট লিমিটেডের পরিচালক নুরুল আফসার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রতীক বর্ধন

নুরুল আফসার

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: ইলেকট্রোমার্টের শুরুটা কেমন ছিল?

নুরুল আফসার: মানুষকে সাধ্যের মধ্যে সেরা জিনিস দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ১৯৯৮ সালে চীন থেকে কনকা টিভি নিয়ে আসে ইলেকট্রোমার্ট। তখন সনি রঙিন টিভির দাম ছিল ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকা। আমাদের টিভির দাম ছিল ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ২০০২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের সময় মানুষ রীতিমত লাইন ধরে কনকা টিভি কিনেছে। এরপর আমরা ধীরে ধীরে ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন—এসব বাজারে নিয়ে এলাম। আবার ১৯৯৯ সালে আমরা গ্রির এসি নিয়ে এলাম। এ ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটল—তখন জেনারেল এসি সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে ছিল না। তখন জেনারেলের দেড় টন এসির দাম ছিল ৮০ হাজার টাকা আর গ্রির দেড় টন এসির দাম ছিল ৫০ হাজার টাকা। স্বাভাবিকভাবেই আমরা বড় সাড়া পেলাম। তবে শুধু কম দাম নয়, ভালো সেবা দিয়ে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জন করায় আমরা সব সময় গুরুত্ব দিয়েছি। মানুষকে যেন বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: আপনারা নিজেদের কারখানা কি কি পণ্য উৎপাদন করছেন?

নুরুল আফসার: ২০১৮ সালে আমরা ঢাকার সোনারগাঁয়ে ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনের জন্য কারখানা স্থাপন করেছি। তবে কারখানা আমাদের আগেও ছিল, সেখানে শুধু সংযোজন হতো। সোনারগঁওয়ের আমরা কনকার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ফ্রিজ উৎপাদন করছি। তারপর ২০২০ সালে গ্রির সঙ্গে যৌথভাবে এসি উৎপাদন শুরু করি।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: করোনাকালের ক্ষতি কি পুষিয়ে উঠতে শুরু করেছেন?

নুরুল আফসার: দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়া প্রথম তিন মাস তো সবকিছু বন্ধই ছিল। তারপর এসি নিয়ে যে ভীতি তৈরি হয়, তা দূর করতে বিশেষ ফিল্টার যুক্ত করা হলো। এরপর খাবারের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায় না, এসব প্রচারণাও চালাতে হয়েছে। অনলাইনেও পণ্য বিক্রি বাড়াতে উদ্যোগ নিই আমরা। তবে তেমন সফলতা মেলেনি। কারণ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী পণ্য কেনার সময় দেখে নিতে চায়। তবে দিন দিন অনলাইনে বিক্রি বাড়ছে। ২০২০ সালে সবারই ক্ষতি হয়েছে। ২০২১ সালে এসে সেটা আমরা অনেকটা পোষাতে পেরেছি। বলা যায়, এখন ২০১৯ সালের মার্চ মাসের প্রায় কাছাকাছি বিক্রি আমরা করছি।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: দেশে তো এসি ও ফ্রিজের বাজার বড় হয়েছে। এখন কি আপনারা বিদেশে রপ্তানির চিন্তা করছেন?

নুরুল আফসার: ঠিক এখনই নয়, এখন আরও কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। সে জন্য আমরা ২০২৪ সালের দিকে এসি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছি। এর সঙ্গে বিনিয়োগ ও প্রত্যয়নের বিষয় আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার লক্ষ্য নিয়েছি। কনকা ও গ্রির সঙ্গে আমাদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আছে। আমাদের দেশের কারখানা থেকে আশপাশের দেশে বাজার ধরা যায় কি না সেটি নিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হচ্ছে।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনে জন্য সরকারের নীতি কতটা ব্যবসাবান্ধব?

নুরুল আফসার: বর্তমানে সরকারের নীতি ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট অনুকূল। ২০২২ সাল পর্যন্ত ভ্যাট ছাড় আছে। তবে আমরা কারখানা করলাম মাত্র ২০১৮ সালে। ফলে আমাদের আবেদন, সরকার যেন তা আরও ১০ বছর বৃদ্ধি করে। নীতির ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব থাকা দরকার। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন। কারণ তারা দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা করেন। এখানে চীনের উদাহরণ দেওয়া যায়। একসময় অনেক বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে দেশটি। তবে রাজনীতিসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা চীন থেকে সরে আসার চিন্তা করছেন। বাংলাদেশের ব্যাপারে তাঁরা আগ্রহী। বাংলাদেশ যথাযথ নীতি প্রণয়ন করলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আসবেন।