default-image

জাতীয় কিংবা আঞ্চলিক নির্বাচনের মতো সড়কে সড়কে পোস্টার লাগানোর রেওয়াজ নেই। শত শত কর্মী নিয়ে মিছিলও করতে হয় না। তারপরও তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে দুই প্যানেল—সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম। তার বাইরে প্রার্থীরাও ব্যক্তিগতভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন।

দেশের শীর্ষ রপ্তানি আয়ের খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সঙ্গে দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্ত উদ্যোক্তারা বলছেন, বিজিএমইএর আগের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে এবার বেশি অর্থ খরচ করছে দুই প্যানেল। দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনকেন্দ্রিক খরচের লাগাম টানতে সংগঠনের নিয়মনীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। অন্যথায় তুলনামূলক ছোট ব্যবসায়ীরা নেতৃত্বে আসতে পারবেন না।

আট বছর পর আগামী রোববার বিজিএমইএতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫ পরিচালক পদে সংগঠনটির নির্বাচনকেন্দ্রিক বড় জোট সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের ৭০ জন প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে লড়বেন। এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন ২ হাজার ৩১৩ জন তৈরি পোশাকশিল্প মালিক। তাঁদের মধ্যে ঢাকার ১ হাজার ৮৫২ ও চট্টগ্রামের ৪৬১ জন।

বিজ্ঞাপন
ভোটারদের উপহার দেওয়াকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম।

গত তিন দিনে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের এক ডজন প্রার্থীর সঙ্গে প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁদের তথ্যানুযায়ী, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার খরচ মেটাতে ফোরামের প্রার্থীরা ৩ লাখ টাকা করে দুই দফায় ৬ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাতে ২ কোটি ১০ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন প্রার্থী কম টাকা দেওয়ায় সেটি হয়নি। অন্যদিকে সম্মিলিত পরিষদ তাদের প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ টাকা করে সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। পরিকল্পনা ছিল ৭ কোটি টাকার নির্বাচনী তহবিল গড়ার। শেষ পর্যন্ত কয়েকজন প্রার্থী বেশি অর্থ দিয়েছেন, কেউ কেউ আবার কমও দিয়েছেন। এসবের বাইরে ঢাকার বাইরে সভা আয়োজনেও অর্থ দিয়েছেন উভয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

কোটি কোটি টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দুই মাস ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম। প্রার্থী পরিচিতির নামে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেলে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান করেছে উভয় জোট। তার বাইরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বেশ কয়েকটি সভা ও মেজবানের আয়োজন করে একটি জোট। ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ দিয়ে প্রার্থীদের ছবি ও ভিডিও প্রচার করছে উভয় জোট। আবার ব্যবসায় নিয়মিত নয় এমন সদস্যদের কাগজপত্র ঠিকঠাক করে ভোটার করতেও মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করেছে উভয় জোট। তবে করোনার কারণে নির্বাচন বোর্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত দুই দিন ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদের সর্বশেষ প্যানেল পরিচিতি সভা স্থগিত হয়ে যায়। এতে খরচ কিছুটা কমেছে দুই জোটেরই।

বিজিএমইএর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বিজিএমইএর নির্বাচনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বেশি অর্থ খরচ করছেন প্রার্থীরা। ভোটে জিততে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোটি টাকার ওপরে ব্যয় করে ফেলেছেন। ভোটারদের উপহারসামগ্রী দেওয়া থেকে শুরু করে নানাভাবে ভোট টানার চেষ্টা চলছে।

এদিকে ভোটারদের উপহার দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় জোটই একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে বিজিএমইএর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে। সর্বশেষ গত সোমবার সম্মিলিত পরিষদের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী আবদুস সালাম মুর্শেদী ফোরামের প্রার্থী ও বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে বলা হয়, সভাপতি রুবানা হক গত ২৪ মার্চ সংগঠনের সদস্যদের একটি চিঠি ও ক্রেস্ট উপহার হিসেবে পাঠান। একই দিন সম্মিলিত পরিষদের দলনেতা ফারুক হাসান ও প্রার্থী শহিদউল্লাহ আজিমের বিরুদ্ধে ভোটারদের উপহার প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচনী নীতিমালা লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ করেন ফোরামের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী বেনজির আহমেদ। তার আগে আরও দুটি অভিযোগ করেছিল ফোরাম।

জানতে চাইলে ফোরামের দলনেতা এ বি এম সামছুদ্দিন গতকাল দাবি করেন, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ফোরামের নির্বাচনী ব্যয় পুরোপুরি অর্ধেক। তবে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন খাতে খরচ তুলনামূলক বেড়েছে।

এ বিষয়ে সম্মিলিত পরিষদের দলনেতা ফারুক হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খরচ খুব বেশি না। নীতিমালা মেনে প্রচার-প্রচারণায় লিফলেট, ইশতেহার সবকিছুই আমরা সাদাকালো ছেপেছি।’ তবে তিনি বলেন, ‘আমরা জয়ী হলে নির্বাচনকেন্দ্রিক খরচে লাগাম টানতে অবশ্যই একটি নীতিমালা করব।’

বিজ্ঞাপন
শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন