default-image

রোববার বিকেলে দেশের সবচেয়ে বড় চামড়ার আড়ত রাজধানীর পুরান ঢাকার পোস্তায় গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি পিকআপ ও ট্রাকে করে কোরবানির পশুর চামড়া আড়তে আসছে। তার অধিকাংশই গরুর চামড়া। খাসির চামড়ার ক্রেতা–বিক্রেতা উভয়ই কম। পোস্তার ছয়–সাতটি আড়তের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, তারা কেউ খাসির চামড়া কিনছে না। শুধু গরুর চামড়া কিনছে। তবে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে দু–তিনজন ছোট ব্যবসায়ীকে ১০ টাকা দরে খাসির চামড়া কিনতে দেখা গেছে। পোস্তার চামড়া ব্যবসায়ী আবদুল হাই বলেন, ‘আমি ১০ টাকা দরে ছাগলের ৮০টি চামড়া কিনেছি।’

সায়েন্স ল্যাব এলাকাতেও ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়াই বেশি কিনেছেন। সেখানে মাত্র তিনজনকে দেখা গেছে খাসির চামড়া কিনতে। কেরানীগঞ্জের দারুল মাআরীফ কওমি মাদ্রাসা থেকে চারটি খাসির চামড়া নিয়ে সায়েন্স ল্যাবে আসেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মারুফ হোসেন। মাত্র ৫০ টাকায় সেগুলো বিক্রি করেন।

ফার্মগেট এলাকা থেকে আসা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান গরুর চামড়ার পাশাপাশি দুটি খাসির চামড়াও এনেছিলেন। কিন্তু ১০ টাকা দাম শুনে সেই চামড়া বিক্রি না করে সেখানেই রেখে যান।

হাজারীবাগের ট্যানারি মোড়েও খাসির চামড়ার এমন দাম দেখা গেছে। সেখানকার মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি ১০–১৫ টাকার মধ্যেই খাসির চামড়া কিনছি।’

খাসির এই নামমাত্র দাম নতুন নয়। কয়েক বছর ধরেই এই চিত্র দেখা গেছে। গত বছর রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় খাসির কাঁচা চামড়ার দাম না পেয়ে অনেকে বিনা পয়সায় রেখে গেছেন। অধিকাংশই নামমাত্র ৮–১০ টাকা দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে ২ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল খাসির চামড়া। সরকার লবণজাত কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও কোরবানির পশুর রক্তমাখা চামড়ার দাম নির্ধারণ করেনি। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যার কাছ থেকে যে দামে পারেন কেনেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান প্রথম আলোকে বলেন, ট্যানারিগুলোতে খাসির চামড়ার কোনো চাহিদা নেই। তাই বাজারে দামও নেই।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন