বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিন্তু দামি ফ্ল্যাটের ক্রেতা দিয়ে আবাসন খাতের সুদিন কত দিন টিকবে, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। যে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে আবাসন ব্যবসায়ীরা তাঁদের মূল ক্রেতা হিসেবে দেখেন, তাঁরা বাজারে সক্রিয় হতে না পারলে বর্তমান সুদিন টেকসই হবে না বলে অভিমত আবাসন ব্যবসায়ীদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সহসভাপতি আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ছোট ও মাঝারি আকারের ফ্ল্যাটের ক্রেতা কমে গেছে। মহামারির কারণে চাকরিজীবীদের একটা অংশের আয় কমেছে কিংবা চাকরি গেছে। অনেক প্রবাসীকেও দেশে ফেরত আসতে হয়েছে বা আয় কমেছে। ফলে সাধারণ ফ্ল্যাট কেনায় ক্রেতাদের সাড়া আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। এটা উদ্বেগের। আবার কোটি টাকার বেশি দামি ফ্ল্যাটের ক্রেতা অনেক। এটা এই খাতের জন্য স্বস্তির। বাজারে যেহেতু বড়রা নেতৃত্ব দিচ্ছে, সে জন্য সামগ্রিকভাবে মনে হচ্ছে, এই খাতের ব্যবসায় গতি ফিরেছে।

চট্টগ্রাম রিহ্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এখানে আগে শতাধিক প্রতিষ্ঠান ছিল। সংগঠনের সদস্যসংখ্যা কমে ৮৩টিতে নেমেছে। এর মধ্যে নিয়মিত প্রকল্প আছে, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অর্ধেকের কম। ১৫টির মতো প্রতিষ্ঠানই এখন বাজারে সক্রিয় আছে, যারা একের পর এক প্রকল্প নিচ্ছে। মহামারি কাটিয়ে ওঠার পর তারাই মূলত ভালো ব্যবসা করছে। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানের হাতে কোটি টাকা দামের ফ্ল্যাটই বেশি। চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর মতো পেশাজীবী শ্রেণি এবং ব্যবসায়ীরা এসব ফ্ল্যাটের প্রধান ক্রেতা।

আবাসন ব্যবসায়ীরা জানান, এই বছর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে দেড় কোটি টাকার বেশি দামের ফ্ল্যাট। সাধারণ ফ্ল্যাটের তুলনায় এসব ফ্ল্যাট আকারে বড়, নকশা ও নির্মাণশৈলীতে উন্নত এবং এগুলোতে সুযোগ-সুবিধাও অনেক বেশি। চট্টগ্রামে দামি ফ্ল্যাটের নির্মাণকারী ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জুমাইরা হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শাহজাহান প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের একেকটি ফ্ল্যাটের ন্যূনতম মূল্য আড়াই কোটি টাকা। এসব ফ্ল্যাটে নাগরিক জীবনের নানা সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। সুইমিংপুল ও ব্যায়ামাগার নির্মাণ এবং শিশুদের খেলার জন্য খোলা জায়গা রাখায় খরচ পড়েছে বেশি। এরপরও এসব ফ্ল্যাট বিক্রি করতে বেগ পেতে হচ্ছে না।

এদিকে ঠিকমতো ক্রেতা না পাওয়ায় ছোট ও মাঝারি ধরনের আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো নেই। গেল নভেম্বরে চট্টগ্রামে আবাসন মেলায় এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেখা যায়নি। বড় কোম্পানিগুলো এখন পর্যন্ত নির্মাণ উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিতে পারলেও ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো বেশ হিমশিম খাচ্ছে। তাই তারা বাড়তি ব্যয়টা গ্রাহকদের কাছ থেকেই আদায়ের চেষ্টা করবে।

চট্টগ্রামের বেসরকারি খাতে আবাসন ব্যবসা শুরু হয় ৩৬ বছর আগে। প্রথম প্রতিষ্ঠান হলো ‘আইডিয়াল হোম ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড’। চার উদ্যোক্তার এই প্রতিষ্ঠান ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রামের পূর্ব নাসিরাবাদে ‘আপন নিবাস’ নামে প্রথম প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করে। বছর দশেক পর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই খাতে যুক্ত হয় শাইনপুকুর হোল্ডিংস। এরপর ১৯৯৯ সালে যুক্ত হয় ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। মূলত ২০০৮ সালে এসে এই ব্যবসার বিকাশ ঘটে। পাঁচ বছর ভালো ব্যবসাও হয়। তবে ব্যবসায় মন্দা শুরু হয় ২০১৩ সালে। আট বছর পর আবার ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আবাসন কোম্পানিগুলোর।

প্রায় ২২ বছর ধরে আবাসন ব্যবসায় যুক্ত আছেন ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আইনুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো এ বছর ভালো ব্যবসা করেছে, এটা ঠিক। মহামারির পর অর্থনীতিতে গতি ফেরায় আবাসন খাতও তুলনামূলক ভালো করছে। এখন সাধারণ ফ্ল্যাটের ক্রেতারা যদি সক্রিয় হন, তাহলে আবাসন খাতে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসা ভালো হবে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন