default-image

লিখিত চুক্তির পরও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দিতে গড়িমসি করছেন পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস। তাঁর মালিকানাধীন ড্রাগন সোয়েটার ও ইম্পেরিয়াল সোয়েটারের শ্রমিকেরা তিন দিন ধরে বকেয়া পাওনার দাবিতে শ্রম ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
গত মাসে ত্রিপক্ষীয় সভায় চার কিস্তিতে শ্রমিকের পাওনা দিতে প্রতিশ্রুতি দেন মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস। লিখিত চুক্তিও হয়। সে অনুযায়ী গত শনিবার (৭ নভেম্বর) শ্রমিকেরা প্রথম কিস্তির অর্থ নিতে ড্রাগনের কার্যালয়ে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন।
মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ১৯৮৬ সালে পুলিশের চাকরি ছেড়ে ব্যবসায়ী হন। শিগগিরই রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কাতারে নাম লেখান তিনি। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বিজিএমইএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের মালিকানাধীন পোশাক কারখানা রয়েছে নয়টি। তার মধ্যে রয়েছে ড্রাগন সোয়েটার, ইম্পেরিয়াল সোয়েটার, ড্রাগন সোয়েটার ও স্পিনিং, সিডি স্পিনিং মিলস, ফারনোর সোয়েটার ইত্যাদি। তার মধ্যে ড্রাগন সোয়েটার ও স্পিনিং দেশের শেয়ারবাজারেও তালিকাভুক্ত। এটির পাশাপাশি ড্রাগন সোয়েটার ও ইম্পেরিয়াল বর্তমানে উৎপাদনে আছে। শিগগিরই আরেকটি চালু হবে। দীর্ঘদিন ধরে রূপালী ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস।

বিজ্ঞাপন

পাওনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত গত মার্চে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটি শুরু হয় ২৬ মার্চ। তখন মালিবাগের ড্রাগন ও ইম্পেরিয়াল কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দুটি কারখানা কুমিল্লায় স্থানান্তরের জন্য নোটিশ জারি করে মালিকপক্ষ। তখন শ্রমিকেরা ঢাকা থেকে কুমিল্লা না গিয়ে আইনানুগ পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। পরে মে মাসে নতুন করে করোনার অজুহাত দেখিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

নির্ধারিত দিনে আমরা টাকা নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও শ্রমিকেরা আসেনি। ম্যানেজাররা আসছিল।’ তিনি বলেন, ‘রোববার শ্রম দপ্তরে শ্রমিকদের বিষয় নিয়ে আমরা বসব।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস

টানা আন্দোলনের পর গত ১২ অক্টোবর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায়ের সভাপতিত্বে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ড্রাগনের মালিকপক্ষ ৭ ও ২২ নভেম্বর এবং ৭ ও ২২ ডিসেম্বর চার কিস্তিতে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করবে। শ্রমিক-কর্মচারীরা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রতিবছর চাকরির জন্য ১৫ দিনের মূল মজুরি পাবেন। ২০১৮ সালের পরের সময়ে অর্জিত ছুটির অর্থ পাবেন তাঁরা। বৈঠকে ড্রাগন সোয়েটারের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।

ড্রাগনের শ্রমিক প্রতিনিধি আবদুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘শনিবার সকালে শ্রমিক-কর্মচারীরা গেলে ৮৭ জনকে কেবল ভবিষ্য তহবিল এবং ৮৯ জনকে সার্ভিস বেনিফিট ও ভবিষ্য তহবিলের অর্থ দিতে চায়। আর ৩৪৬ জনকে বলা হয় তাঁরা কিছু পাবেন না। কর্মকর্তা পর্যায়ের ১৪ জনকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। হিসাব সঠিক না থাকায় টাকা না নিয়ে সবাই ফিরে আসেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্ধারিত দিনে আমরা টাকা নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও শ্রমিকেরা আসেনি। ম্যানেজাররা আসছিল।’ তিনি বলেন, ‘রোববার শ্রম দপ্তরে শ্রমিকদের বিষয় নিয়ে আমরা বসব।’
এদিকে গতকাল শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করে শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধিদল। এ বিষয়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মনজুর মঈন বলেন, ‘শ্রম প্রতিমন্ত্রী আমাদের সামনেই মোবাইল ফোনে ড্রাগনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে শ্রমিকের অর্থ পরিশোধ করতে বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0