বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সজাগ কোয়ালিশন হচ্ছে ব্লাস্ট, ক্রিশ্চিয়ান এইড ও নারীপক্ষের একটি যৌথ উদ্যোগ। এই আয়োজনে সহযোগিতায় রয়েছে ফোর্জ।

করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকে একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিতাদেশ আসতে থাকে। তখন পোশাকশিল্পের মালিকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে রপ্তানিমুখী শ্রমিকদের এপ্রিল, মে ও জুন—এই তিন মাসের মজুরি দেওয়ার জন্য সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণের প্যাকেজ ঘোষণা করে। ওই ঋণের বিপরীতে সেবা মাশুল ছিল ২ শতাংশ। পরে পোশাকশিল্পের মালিকেরা আরও এক মাসের মজুরি দেওয়ার জন্য ঋণ দাবি করেন। সরকারও তা মেনে নেয়। তখন তহবিলের আকার বেড়ে ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দাঁড়ায়। তবে চতুর্থ মাসের বেতনের জন্য ঋণের ক্ষেত্রে মালিকদের সুদ দিতে হয় সাড়ে ৪ শতাংশ। বাকিটা ভর্তুকি দেয় সরকার।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকারের প্রণোদনা তহবিল থেকে বিজিএমইএর ৬২ শতাংশ কারখানা গড়ে ৫ কোটি এবং বিকেএমইএর ২৯ শতাংশ কারখানা গড়ে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সহায়তা পেয়েছে। বড় কারখানাগুলো বেশি সুবিধা নিতে পারলেও ছোটরা পারেনি। প্রণোদনা ঋণের জন্য আবেদন না করা কারখানার মধ্যে ৩৯ শতাংশ প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আবেদন করতে পারেনি, যদিও সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকটি কারখানা প্রণোদনা তহবিল থেকে সুবিধা পেয়েছে।

করোনার প্রথম ধাক্কায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছে, যা পোশাক খাতের মোট শ্রমিকের ৪ শতাংশ। এমন তথ্য দিয়ে সিপিডির এই গবেষক বলেন, সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা না করলে আরও অনেক শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকির শিকার হতেন। তবে প্রণোদনা সুবিধাটি ব্যাপকভাবে দেওয়া গেলে বর্তমানে যে পরিমাণ শ্রমিক বেকার রয়েছেন, সেটি হতো না। যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরা কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের দেনা বেড়ে গেছে। খাদ্যের খরচ কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই। পুরুষদের চেয়ে নারী শ্রমিকেরা আছেন বেশি দুশ্চিন্তায়। তাঁদের একটি অংশ বাধ্য হয়ে এখন বাসাবাড়িতে কাজ করছেন।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, প্রণোদনা তহবিল থেকে শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের সময় মোবাইলে আর্থিক সেবার (এমএফএস) ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা পরে আবার কমেছে। তাই বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নতুন করে তাদের সদস্যদের শ্রমিকের মজুরি প্রদানে ব্যাংক বা এমএফএস সেবা গ্রহণে চাপ দিতে পারে। তিনি বলেন, বিজিএমইএ শ্রমিকদের একটি তথ্যভান্ডার করেছে। সেটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালনা করা যেতে পারে। যেখানে বিজিএমইএর পাশাপাশি সরকার ও শ্রমিক প্রতিনিধি থাকবেন। সেটি হলে স্বচ্ছতা বাড়বে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, করোনার প্রথম ধাক্কায় প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে চার মাসের মজুরি দেওয়ার অর্থ পাওয়ায় মালিকদের মাথা থেকে বোঝা সরে গিয়েছিল। শ্রমিকদের কথা চিন্তা করেই সরকার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু কারখানা প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পায়নি। সবাই সুবিধা পেলে পরিস্থিতি আরও ভালো হতো। আগামী দিনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সব কারখানাকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

ওল্ড টাউন ফ্যাশনের কমার্শিয়াল ম্যানেজার জাহিদ হোসেন বলেন, সবাই বড় বড় কারখানার কথা বলেন। ছোটদের দিকে কেউ নজর দেন না। ছোটদের অনেকেই ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারছে না। ব্যাংকের ঋণও পরিশোধ করতে পারছে না অনেকে। তাই ছোট কারখানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তাদের ব্যবসায়ে ধরে রাখতে পারলেই পোশাক খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজিএমইএর পরিচালক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সরকারের দেওয়া প্রণোদনার কারণেই করোনার এই মহামারির মধ্যেও তৈরি পোশাকশিল্প দাঁড়িয়ে আছে। প্রণোদনা তহবিলের অর্থ সঠিকভাবে বিতরণ হয়েছে। যারা পায়নি তারা আসলে নিয়মকানুন পূর্ণ করতে পারেনি।’ ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পোশাকশিল্পে দক্ষ শ্রমিকের সংকট আছে। ফলে যারা আসতে চায়, তাদের তথ্য দিলে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব।’

সজাগ কোয়ালিশনের প্রতিনিধি ফারহানা আফরোজ বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণসহায়তা পাওয়ার পরও কিছু কারখানায় কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছোট, মাঝারি ও বড় কারখানাগুলো একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে যুক্ত থাকলে তাদের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেত। এমনকি তাদের ফিরিয়ে আনার কাজটি সহজ হতো।

ফারহানা আফরোজ আরও বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে (ডিআইএফই) শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের তথ্যভান্ডারে স্বচ্ছতা আনতে মালিক, শ্রমিক ও সরকার—এই তিন পক্ষের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন