বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয় মূলত সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার দুটি এবং মালয়েশিয়ার দুটি বন্দর দিয়ে। প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে এই চার বন্দরে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে বড় জাহাজে সেসব কনটেইনার যায় ইউরোপ-আমেরিকায়।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে কনটেইনার জটের পর থেকে বিকল্প পথ দিয়ে পণ্য আমদানির পাশাপাশি রপ্তানি

বাড়ছে। তবে এ পথে জাহাজ ও কনটেইনার পরিবহনের হার অনেক কম। আবার চার দিন বাড়তি সময় লাগে। এরপরও সংকটের সময়ে বিকল্প পথে কিছুসংখ্যক কনটেইনার ইউরোপে পাঠানোর বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বন্দর–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই এ নৌপথে ‘এসএসএল কচি’ নামের জাহাজটি ৫১৫ একক রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার নিয়ে বন্দর ছেড়ে গেছে। এর আগে জুন মাসে তিনটি জাহাজে এ নৌপথে ১ হাজার ১৭৯ একক কনটেইনার রপ্তানি হয়েছে। এর আগে মে মাসে ৩১৮ একক, এপ্রিলে ৪৫৩ একক, মার্চে ৪৮৫ একক কনটেইনার রপ্তানি হয়। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ একক কনটেইনার রপ্তানির তুলনায় এ সংখ্যা খুবই কম। তবু সংকটের সময় এ ধরনের বিকল্প পথে কিছু কনটেইনার রপ্তানি হলে চাপ কমবে বলে মনে করছেন শিপিং এজেন্টরা। আর এই নৌপথে জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো গেলে সংকট মোকাবিলায় তা সহায়তা করবে।

চট্টগ্রাম থেকে ভারতের কৃষ্ণপত্তনাম নৌপথে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কনটেইনার আনা-নেওয়া হচ্ছে জার্মান শিপিং কোম্পানি হ্যাপাগ লয়েডের মাধ্যমে। হ্যাপাগ লয়েডের বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, কৃষ্ণপত্তনাম থেকে চেন্নাই ও কলম্বো হয়ে সপ্তাহে এক দিন বড় জাহাজ ইউরোপে যায়। সিঙ্গাপুর-কলম্বোতে কনটেইনারের জট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সংকটের কারণে নিয়মিত পথের পাশাপাশি এ পথে কনটেইনার আনা-নেওয়া বেড়েছে। অন্তত চার দিন বেশি সময় লাগলেও কিছুসংখ্যক কনটেইনার নেওয়া যাচ্ছে—এটাই এ সময়ে কিছুটা হলেও স্বস্তির। সংকটের সময় গ্রাহকদের সেবা দিতে বিকল্প পথে

রপ্তানি পণ্য পরিবহনের চেষ্টা চলমান আছে বলে তিনি জানান।

শিপিং কোম্পানিগুলো জানায়, বিকল্প পথ ছাড়াও প্রচলিত নৌপথে প্রতিদিন রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার যাচ্ছে। বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোয় ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার নেওয়া হচ্ছে। তবু কনটেইনারের স্তূপ কমছে না। এর কারণ হলো সংকটের পাশাপাশি পণ্য রপ্তানি বাড়ছে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন