default-image

দিঘি অ্যান্টি ফেইক কোম্পানির ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, শুল্ককর পরিশোধিত’ লেখা ব্যান্ডরোলের নমুনা দেওয়া ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেওয়া একই রকম জাল ব্যান্ডরোল উদ্ধার করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। শুধু ব্যান্ডরোল নয়, প্রতিষ্ঠানটি নকলরোধী পাসপোর্ট, ব্যালট পেপার, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ বানায় বলে ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে। চীনের প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক তালিকায় যে কটি দেশ রয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের নামও রয়েছে।

অবশ্য ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা জাল ব্যান্ডরোলের প্রথম চালান শনাক্ত করার পরের দিন ওয়েবসাইট থেকে বাংলায় লেখা জাল ব্যান্ডরোলের নমুনা সরিয়ে ফেলা হয়। তার আগেই প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের বেশ কিছু স্ক্রিনশট প্রথম আলো নিয়ে রেখেছে। আজ বৃহস্পতিবার ওই ওয়েবসাইটের ঠিকানায় গিয়েও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মইনুল খান প্রথম আলোকে বলেন, ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা বা বন্ধ করা হলেও প্রমাণ উদ্ধার করা কঠিন নয়। এ ঘটনার নেপথ্যে কারা আছে তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। সিগারেটের প্যাকেট বাজারজাত করার সময় জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, কাস্টম হাউসের পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় রপ্তানিকারক, রপ্তানিকারকের ওয়েবসাইট, তৈরি দেশ, আমদানিকারকের ব্যবসায়ের ধরন ও ঠিকানা, পণ্যের বর্ণনা বিশ্লেষণ করে ৭ ডিসেম্বর জাল ব্যান্ডরোলের প্রথম চালান শনাক্ত করা হয়।

বাংলাদেশে বিড়ি-সিগারেটের প্যাকেটে কাগজের যে ছোট পাতলা আবরণ ফিতার মতো জড়ানো থাকে, সেটি হলো ব্যান্ডরোল। ব্যান্ডরোল ছাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ। সেখান থেকে তা সংগ্রহ করে সিগারেটের কোম্পানিগুলো। বিড়ি বা সিগারেটের কর আদায় হয় এই ব্যান্ডরোলের মাধ্যমে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার মো. সালাহউদ্দিন রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, জাল ব্যান্ডরোল জব্দের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন