বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাজারটিতে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে ইবিএ সুবিধার (অস্ত্র ছাড়া সবকিছু) অধীনে জিএসপি পায় বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশ হবে বাংলাদেশ। তারপর আরও তিন বছর ইইউর বাজারে জিএসপি বজায় থাকবে। অন্তত ১২ বছর সুবিধা বহাল রাখার বিষয়ে সরকার ও বিজিএমইএ কাজ করছে বলে জানান ফারুক হাসান।

সাধারণ নিয়মে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে হলে জিএসপি প্লাসের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। সেটি পাওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে—আইএলওর ২৭টি কনভেনশন বাংলাদেশকে অনুসমর্থন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ইতিমধ্যে ২৬টি কনভেনশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। শিশুশ্রমের বয়সবিষয়ক কনভেনশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেনি। দ্বিতীয় শর্তটি বাংলাদেশের জন্য সমস্যা নয়। তবে তৃতীয় শর্তটি বাংলাদেশের বিপক্ষে রয়েছে। সেটি হচ্ছে ইইউ থেকে যেসব এলডিসি জিএসপি সুবিধা পায়, তার ৭ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি হিস্যা হলে জিএসপি প্লাসের জন্য যোগ্য হবে না সংশ্লিষ্ট দেশ। বাংলাদেশের হিস্যা বর্তমানে ২০ শতাংশের ওপরে। জিএসপি প্লাসের অধীনে ট্যারিফ লাইনের ৬৬ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। তার মধ্যে পোশাক ও বস্ত্র খাতের সব ধরনের পণ্যই রয়েছে।

ফারুক হাসান বলেন, ইইউ ২০২৪-২০৩৪ সাল পর্যন্ত জিএসপি প্লাসের নতুন নিয়মে ৭ দশমিক ৪ শতাংশের বাধ্যবাধকতাটি তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এ জন্য ইইউর পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত ইইউর সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রেনশে টেরিংকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ইইউর বাজারে ভবিষ্যতে প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে জিএসপি প্লাসের বিকল্প নেই। একটি শর্ত শিথিল করার যে প্রস্তাব এসেছে, সেটি নিশ্চিতে সরকারি পর্যায়ে দেনদরবার করতে হবে। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে ব্র্যান্ড, ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, ভোক্তা গ্রুপ ও শ্রম আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও জনমত আমাদের অনুকূলে আনতে হবে। তিনি বলেন, শর্তটি শিথিল হলে অন্যান্য শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সে জন্য আইএলওর কনভেনশন অনুসমর্থনের পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের (এএএফএ) সভাপতি স্টিফেন লামারসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠকে পোশাকের ন্যায্যমূল্য দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ফারুক হাসান বলেন, ‘ক্রেতাদের প্রতি এই অনুরোধের পাশাপাশি আমি আমাদের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের আহ্বান করব, আপনারা দয়া করে আপনাদের পোশাকের মূল্যের হিসাব–নিকাশে আরও মনোযোগী হবেন।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন