পোস্তায় ঢুকতেই মো. দিপুর আড়ত। আড়তের প্রধান ফটকের সামনে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে চামড়া কেনা তদারকি করছিলেন তিনি। ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার গরুর চামড়া কেনার প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে মো. দিপু বললেন, ছোট আকারের গরুর চামড়া ৪০০, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৬০০–৮০০ এবং বড় আকারের গরুর চামড়া ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনছেন।

চামড়ার দাম কম কেন—জানতে চাইলে মো. দিপু বললেন, প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ১০–১২ টাকা খরচ পড়ছে। তার মানে একটি চামড়া ৬০০ টাকায় কেনার পর লবণ ও শ্রমিকের পেছনে ৩০০ টাকা খরচ পড়ছে। ট্যানারির মালিকেরা যখন চামড়া কিনতে আসবেন, তখন তাঁরা নানা অজুহাতে দাম কমাবেন। আমরা তাঁদের কাছে জিম্মি।

আড়তদার মো. দিপুর সঙ্গে কথা বলে যখন বের হচ্ছি, তখন একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী তিনটি ছোট আকারের গরুর চামড়া বিক্রি করতে নিয়ে এসেছেন। প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে চামড়া তিনটি বের করার পর আড়তের কর্মচারীরা প্রতিটির দাম বললেন ১০০ টাকা। কিন্তু এই দামে বিক্রি করবেন না সেই ব্যবসায়ী। ব্যাগে ভরে নিয়ে চলে গেলেন। এত কম দাম বলার কারণ কী জানতে চাইলে মো. দিপু বললেন, চামড়ার মান ভালো না। তা ছাড়া ছোট আকারের গরুর চামড়ার চাহিদা খুবই কম। কারণ, প্রক্রিয়াজাতের পর চামড়াটি কাটিং করলে কিছু থাকে না।

মো. দিপুর সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন আশপাশের কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ী বলার চেষ্টা করেন, ছোট আকারের গরুর চামড়ার চাহিদা নেই। তাই তাঁরা ছোট চামড়া কিনতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪৭ থেকে ৫২ টাকা নির্ধারণ করে। ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। এ ছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ও ঢাকায় বকরি ও খাসির চামড়ার দাম একই থাকবে।

পোস্তার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বড় আকারের গরুর চামড়া ৩৫-৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ২১-৩০ এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া ১৬-২০ বর্গফুটের হয়।

যার যার বুঝে চামড়া কিনছে। আবার ১০০টি চামড়ার মধ্যে ১০টি নষ্ট হয়। সেই লোকসান হিসাব করেই ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনছেন।
টিপু সুলতান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন

পোস্তার আরেকটি আড়তে গিয়ে মুজিবর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি আড়তের কর্মচারী। বললেন, ছোট আকারের গরুর চামড়া ২০০–২৫০ টাকা, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৪০০–৫০০ এবং বড় আকারের গরুর চামড়া ৭০০–৮০০ টাকায় কিনছেন। প্রতিটি চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে লবণ ও শ্রমিকের মজুরিসহ ৩০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। অপচয় বাদ দিলে ছোট আকারের গরুর চামড়ায় লোকসান বেশি হয়। তাই ছোট আকারের চামড়া খুব বেশি কিনছেন না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান প্রথম আলোকে বলেন, যার যার বুঝে চামড়া কিনছে। আবার ১০০টি চামড়ার মধ্যে ১০টি নষ্ট হয়। সেই লোকসান হিসাব করেই ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনছেন। ফলে এটিকে কম দাম বলা যাবে না বলে দাবি করেন তিনি।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন