খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড রয়েল এনফিল্ড ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে উৎপাদন ও বাজারজাত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। কারখানা স্থাপনের জন্য চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ৩০ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছে ইফাদ মোটরস। রয়েল এনফিল্ডের সঙ্গে ইফাদের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় তারা এখানে রয়েল এনফিল্ডের ৩৫০ থেকে ৫০০ সিসির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল উৎপাদন করতে পারবে।

দেশের বাজারে মোটরসাইকেল উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে ভারতের বাজাজ, হিরো ও টিভিএস; জাপানের সুজুকি, ইয়ামাহা ও হোন্ডা এবং স্থানীয় রানার ও ওয়ালটন। যানজট বেড়ে যাওয়ায় ও রাইড শেয়ারিং জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় মোটরসাইকেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিক্রিও বাড়ছে। দেশে ২০১৮ সালে ৪ লাখ ৮৭ হাজার এবং ২০১৯ সালে ৫ লাখ ৪৯ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ছিল ৪ লাখ ১ হাজার ৪৫২টি। কোভিডের প্রভাবে ২০২০ সালে তা কমে ৩ লাখ ১১ হাজার ১৬টিতে দাঁড়ায়। ২০২১ সালে আবার তা কিছুটা বেড়ে হয় ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৫২টি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) নিজেই গত বছর সিসিসীমা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। সংস্থাটি বলেছিল, ৩০০ বা ৫০০ সিসির মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ যে গতি তোলা সম্ভব, ১৬৫ সিসি মোটরসাইকেলেও একই গতি তোলা যায়। বিশ্বের কোথাও এমন সিসিসীমা নেই। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশে ১০ লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদন করা হবে উল্লেখ করে ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় মোটরসাইকেল শিল্পের বিকাশে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ইঞ্জিনক্ষমতার সীমা তুলে নেওয়া দরকার।

সিসিসীমা তুলে নেওয়া নিয়ে দেশের মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলো দুটি ভাগে বিভক্ত। কোম্পানিগুলোর কারও কারও বর্তমানে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। হঠাৎ বাড়তি সিসির মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ দেওয়ায় তাদের বিনিয়োগ ক্ষতির মুখে পড়বে।

যোগাযোগ করলে ইফাদ অটোসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিন আহমেদ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, উন্নত দেশে উৎপাদন শুরুই হয় ৫০০ থেকে ৭০০ সিসির ইঞ্জিন দিয়ে। এটার দরকার ছিল। সিদ্ধান্তটির ফলে এখন বিপুল পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে।

৫০০ সিসির যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমতি তো এখন এল, রয়েল এনফিল্ডের সঙ্গে ইফাদের এমওইউ তাহলে এত আগে হলো কীভাবে। আর এত বেশি সিসির মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ-সুবিধা দেশে নেই বলে বলছেন অনেকে। এ বিষয়ে তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলাম। বলতে পারেন রয়েল এনফিল্ডের সঙ্গে আমাদের এমওইউ অগ্রগামী চিন্তার ফসল।’ বেশি সিসির বিরোধিতাকারীরা হীন মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন