বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কলকারখানা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা রোধে এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে গতকাল বৃহস্পতিবার ২৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে। কমিটির পক্ষ থেকে আজ শুক্রবার সকালে অনলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সালমান এফ রহমান এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, শ্রম সচিব কে এম আবদুস সালাম, দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতের কলকারখানার কমপ্লায়েন্স বা উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এখন দেশীয় খাতের কলকারখানাগুলোর কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা দরকার। আমরা চাচ্ছি, বিডা, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) সমন্বয়ে গঠিত দল প্রতিটি জেলার শিল্পকারখানা পরিদর্শন করবে। তারপর পরিদর্শন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা রোধে এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য গঠিত কমিটি ঈদ ও বিধিনিষেধের পর সভা করবে।

default-image

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কারখানা পরিদর্শনে অতীতে কী সমস্যা হয়েছিল সেটি চিহ্নিত করা না গেলে এগোনো যাবে না। সে জন্যই কাজটির সঙ্গে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডিআইএফইর ত্রুটি-বিচ্যুতিও জাতীয় কমিটি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে নতুন পরিদর্শন সংস্থা করা যায় কিনা সে চিন্তাও করা হবে। ডিআইএফইর কার্যক্রমে সমস্যা আছে বলেই প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের অধীনে পোশাক কারখানাগুলো পরিদর্শন হয়। এই দুই সংস্থার হয়ে যারা কাজ করেছেন তাদের দিয়ে প্রাথমিকভাবে পরিদর্শনকাজ শুরু করার চিন্তাভবনাও করছি আমরা।

সালমান এফ রহমান বলেন, পোশাকশিল্পে আমরা সফলতার সঙ্গে শিশুশ্রম বন্ধ করতে পেরেছি। বাংলাদেশের অন্য শিল্পখাতেও আমরা শিশুশ্রম বন্ধ করতে চাই। বর্তমানে ডিআইএফই, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তর বিভিন্ন বিষয়ে পরিদর্শন করে। এতে করে সমস্যা তৈরি হয়। সে জন্য সমন্বিত একটি পরিদর্শন সংস্থা করা যায় কিনা ভেবে দেখা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার কর্মপরিবেশ উন্নত হবে আর অন্য কারখানার হবে না, সেটি যুক্তিযুক্ত না। দেশীয় কারখানায় যারা কাজ করেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। সে জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুশাাসন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রজ্ঞাপনের পরপরই গতকাল রাতে সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আগামী ১৯ জুলাই এফবিসিসিআই, বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আরেকটি সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শ্রমসচিব কে এম আবদুস সালাম বলেন, সরকার নতুন উদ্যোগ নিলেও ডিআইএফইর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ডিআইএফই শিল্পকারখানার পরিদর্শনে মূলত শ্রম অধিকারের বিষয়ে বেশি জোর দেয়। তার বাইরে অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও ভবনের কাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পোশাকশিল্পের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্যান্য খাতে যথাযথ নজর দিতে পারেনি ডিআইএফই। এ জন্য লোকবলের সংকটকে দায়ী করেন শ্রমসচিব।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, বড় ধরণের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তৈরি পোশাকশিল্পসহ সারা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। কিন্তু দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেভাবে বেড়েছে সেভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সক্ষমতা বাড়েনি। দেশে যত শিল্পকারখানা রয়েছে সেগুলো তদারকি করার মতো সক্ষমতা নেই ডিআইএফইর। তিনি বলেন, আমাদের একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান করা দরকার, যেটি শিল্পকারখানার কর্মপরিবেশ তদারকি করবে। এটি সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারত্বে হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে গতকাল শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা রোধে এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে গতকাল বৃহস্পতিবার ২৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এতে বলা হয়, কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহে অগ্নিদুর্ঘটনা এবং অন্যান্য দুর্ঘটনারোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিডার নেতৃত্বে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে অবিলম্বে সব শিল্পকারখানা সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে কলকারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে গঠিত কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে, কলকারখানা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনারোধ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি গঠিত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শনে পাওয়া পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে। এই কমিটি কলকারখানা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিবীক্ষণ; কলকারখানা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো বিষয়ক আইন, বিধি, নীতিমালা, গাইডলাইন ও নির্দেশনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন