বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

চায়ের বাজারে ইস্পাহানির আধিপত্য কেমন তা একটু পরিসংখ্যান দিলেই বোঝা যাবে। ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশে ৯ কোটি ৫৫ লাখ কেজি চা বাজারজাত হয়েছে। এ চায়ের ১ কোটি ৮০ লাখ কেজিই বাজারজাত করে শীর্ষে অবস্থান করেছে ইস্পাহানি গ্রুপ। শতাব্দীর বেশি সময় ধরে চা–শিল্পে স্টার্লিং হিসেবে পরিচিত ছিল ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলো। কিন্তু গত দুই দশকে চা–শিল্পে ১৮টি শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগ করেছে। ইউরোপিয়ান কিংবা বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগের পরেও ইস্পাহানির শ্রেষ্ঠত্ব কমেনি।

চায়ের গল্পটা ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানির মুখ থেকেই শোনা যাক। তিনি জানান, ‘ছোটবেলা থেকে পরিবারের সদস্যরা চায়ের নমুনা দেখে ও স্বাদ নিয়েই বড় হচ্ছে। পারিবারিক ব্যবসায় যোগদানের আগে পরিবারের পরামর্শে ১৯৭৬ সালে লন্ডনে ইউরোপের বিখ্যাত জন লায়ন্স চা কোম্পানিতে চায়ের টেস্টিংয়ের ওপর ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। ১৯৮২ সালে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেওয়ার পর নিজেই চায়ের স্বাদ পরীক্ষা করতাম। নিলাম থেকে নিজেই কিনতাম। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে এ অভিজ্ঞতা পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে কাজে দিয়েছে।’

default-image

শুধু চায়ের কাপে ঝড় তোলেনি ইস্পাহানি, স্থানীয় ও বহুজাতিক ব্র্যান্ডকে ছাড়িয়ে বহু পুরস্কারও অর্জন করেছে ব্র্যান্ডটি। বাংলাদেশে ব্র্যান্ড ফোরাম সেরা ব্র্যান্ড পুরস্কার প্রবর্তনের পর থেকে প্রতিবছর চায়ের ব্র্যান্ডের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়ে আসছে গ্রুপটির ইস্পাহানি মির্জাপুর চা। বাংলাদেশে দেশীয় ও বহুজাতিক সব ব্র্যান্ডের মধ্যে ২০১৮ সালে প্রথম এবং ২০২১ সালে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে ইস্পাহানির চায়ের ব্র্যান্ড।

default-image

দেশে চায়ের চাহিদা যখন কম ছিল, তখন সিংহভাগ চা-ই রপ্তানি করত ইস্পাহানি। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশে চায়ের ভোগ বেড়েছে। তাতে এখন সিংহভাগ চা-ই দেশে বাজারজাত করছে গ্রুপটি। এরপরও আন্তর্জাতিক বাজারে ইস্পাহানি চায়ের রপ্তানি থেমে থাকেনি। লন্ডনের হ্যারডস স্টোরের তাকে উঠেছে মির্জাপুর ব্রেকফাস্ট টি, শ্রীমঙ্গল গ্রিন টি কিংবা ব্লেন্ডারস চয়েস ব্ল্যাক টি। এখনো ইস্পাহানি মির্জাপুর, ইসপি সুপার এবং স্টার অব বেঙ্গলসহ নানা নামে ইস্পাহানি চায়ের স্বাদ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দারা।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন