চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে যেসব অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, সেগুলো মূলত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কাঁচামাল আমদানি ও তৈরি পণ্য রপ্তানি করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হবে। কারণ, সেখানে বড় বন্দর করার সুযোগ কম। চট্টগ্রাম বন্দরেরও ঘণ্টাখানেক দূরত্বে এই শিল্পনগরের অবস্থান। এ জন্য আমরা বহু আগেই বে টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের কথা বলে আসছি।’

সরকার যেসব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে, সেগুলোর কয়েকটি বিদ্যমান বন্দরের কাছাকাছি গড়ে তোলা হচ্ছে। আবার অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বন্দর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু হলেও এখনো বন্দরসুবিধা বাড়েনি। বন্দরকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে।

বন্দর ঘিরে শিল্পায়নের বড় উদাহরণ বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর ও মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল। বেজার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে এই দুটিকে ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বন্দরকে কেন্দ্র করে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ টানছে উদ্যোক্তাদের। সরকারও বিনিয়োগ আকর্ষণে কাছাকাছি বন্দরের সঙ্গে কম দূরত্বের বিষয়টি তুলে ধরছে।

মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশেই মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল নির্মাণ প্রক্রিয়ার কাজ চলছে। টার্মিনাল চালু হবে ২০২৫ সালে। পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিয়ে চালু হতে সময় লাগবে ২০২৬ সাল পর্যন্ত। আবার বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের পাশে বন্দর করার উদ্যোগ আছে সরকারের।

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে অনেকগুলো কারখানা আগামী বছর থেকে উৎপাদন শুরু করবে। সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপরই নির্ভর করতে হবে। তবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি চট্টগ্রামে বে টার্মিনাল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেছেন, ২০২৪ সালে এই প্রকল্পে তিনটি টার্মিনাল চালু হবে। বন্দরের অর্থায়নে একটি এবং সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বে দুটি টার্মিনাল চালু হবে।

সব ধরনের শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা কাঁচামাল আমদানি–রপ্তানিতে বন্দর সুবিধাকে প্রাধান্য দেন। পোশাক খাতে এই সুবিধা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বেপজা ও বিজিএমইএ জমি নিয়েছে। এখনই শিল্পনগরে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাব আসছে।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সরকার বন্দর ঘিরে চট্টগ্রামে যে শিল্পনগর গড়ে তুলছে, সেখানে পোশাক খাতের অনেক বিনিয়োগ হচ্ছে। তবে বন্দরসুবিধা, বিশেষ করে বে টার্মিনালের নির্মাণ না হলে এই বিনিয়োগের সুফল তোলা যাবে না।

দেশে এখন তিনটি বন্দর থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৯৩ শতাংশ পণ্য আনা–নেওয়া হয়। কনটেইনার পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দরের অংশীদারি ৯৮ শতাংশ। ২০০৭ সালের পর এই বন্দরে নতুন কোনো সমুদ্রগামী জেটি যুক্ত হয়নি। কয়েক বছর আগে থেকে সক্ষমতার চেয়ে বেশি পণ্য ওঠানো–নামানো হচ্ছে বন্দরটি। এতে বছরের বেশির ভাগ সময় পণ্য আমদানিতে সময় লাগছে বেশি।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন