বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে জীবিকা, উপার্জন, চিকিৎসা, উন্নত শিক্ষা, বিচার সালিসের জন্য দেশের মানুষের কাছে ঢাকা একমাত্র কেন্দ্রস্থল। এই ব্যবস্থাগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যত্র তৈরি করা যাবে না, ততক্ষণ ঢাকা শহরের জনসংখ্যা কমানো বা ঢাকায় অভিবাসনে বাধা দেওয়া অলিক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং এই প্রচেষ্টার কারণে আবাসন সমস্যাও জটিল আকার ধারণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি কামাল মাহমুদ, নজরুল ইসলাম, শরীফ আলী খান, মোহাম্মদ সোহেল রানা প্রমুখ।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ২০০৮ সালের ঢাকা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ২০ ফুট সড়কসংলগ্ন ৫ কাঠা জমিতে সর্বোচ্চ ৮ তলাবিশিষ্ট ভবনে মোট সাড়ে ১৩ হাজার বর্গফুট নির্মাণের অনুমতি পাওয়া যেত। আর প্রস্তাবিত বিধিমালা বাস্তবায়িত হলে সমপরিমাণ জায়গায় নির্মাণ করা যাবে সর্বোচ্চ ৫ তলাবিশিষ্ট মোট ৯ হাজার বর্গফুটের ভবন। তবে ২০ ফুটের চেয়ে কম প্রশস্তের সড়কের ক্ষেত্রে ভবনের উচ্চতা ৩-৪ তলার বেশি হবে না। তিনি বলেন, ভবনের আয়তন হ্রাস পেলে জমির মালিকেরা পরিকল্পিত বা চাহিদা অনুযায়ী ফ্ল্যাট কখনোই পাবেন না। ফ্ল্যাটের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে বাসাভাড়া সীমাহীনভাবে বেড়ে যাবে।

আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ব্যাপকভাবে ভবনের আয়তন হ্রাস পেলে সিরামিক, স্যানিটারি, টাইলস, রড, সিমেন্ট, পাথর, বালি, রংসহ ২৬৯টি সহযোগী শিল্পও গভীর সংকটে পড়বে। তাতে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। রিহ্যাব সভাপতি আরও বলেন, রাজউকের এলাকায় মোট স্থাপনা রয়েছে ২১ লাখের বেশি। তার মধ্যে ৮৪ শতাংশ একতলাবিশিষ্ট স্থাপনা। ছয়তলার বেশি স্থাপনা মাত্র শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ। আটতলার বেশি স্থাপনা মাত্র শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ। ফলে ভবনের আয়তন বা উচ্চতা ঢাকা শহরের জনঘনত্ব কমানোর হাতিয়াররূপে ব্যবহার করার চেষ্টা কতটুকু বাস্তবসম্মত, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। প্রস্তাবিত ড্যাপ ও ইমরাত নির্মাণ বিধিমালা চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে নগর–পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, পেশাজীবী ও খাতসংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মতামতের ভিত্তিতে তা করার অনুরোধ করেন তিনি।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন