বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে তার নিজ দেশে বিপুল পরিমাণ জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের ২০২১ সালের কর্মপরিকল্পনা ও ইউরোপিয়ান গ্রিন ডিল বা সবুজায়ন চুক্তির অংশ হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ এ ব্যাপারে নিজ উদ্যোগে কাজ করছে। ব্যবসা পরিচালনায় কোন কোন ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং ঝুঁকি হ্রাসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ফ্রান্সে ‘দা ফ্রেঞ্চ করপোরেট ডিউটি অব ভিজিল্যান্স ল’ নামের আইন রয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, তার সরবরাহকারী অথবা তার অধীনে ঠিকা কাজ করা প্রতিষ্ঠান এই আইনের আওতাভুক্ত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত ঝুঁকি হ্রাস ও পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনগতভাবে বাধ্য। অন্যথায় এ ব্যাপারে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। মানবাধিকার রক্ষায় এসব প্রস্তাবের প্রতি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের সমর্থন রয়েছে।

পোশাক উৎপাদনকারী হিসেবে বিষয়টি আমাদের জন্য কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, সেটি বুঝতে হলে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। প্রথমত, মানবাধিকার রক্ষাজনিত আইন বাস্তবায়িত হলে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় মানবাধিকারের বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা ও তদারক করবে। ফলে তারা এমন সব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান খুঁজবে এবং নির্বাচন করবে, যারা মানবাধিকার রক্ষায় নীতিমালা যথার্থভাবে অনুসরণ করে থাকে। কারণ, ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে তার নিজ দেশে বিপুল পরিমাণ জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।

পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিতে কারখানায় যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সে ব্যাপারে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে বাংলাদেশি পোশাক কারখানার ওপর নজর ও চাপ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, মজুরি এবং অন্যান্য শ্রমিক অধিকার। আমার ধারণা, পোশাক কারখানাগুলো শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট তৎপর কি না, তা নিশ্চিতে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান অডিট বা নিরীক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে। মনে রাখতে হবে, এ ক্ষেত্রে আইনগতভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয় এমন কোনো ঝুঁকি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিতে চাইবে না। তার মানে, কোনো সরবরাহকারী কারখানা যদি তার ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে ব্যবসা হারাবে। বিষয়টি কঠোর হলেও এটাই বাস্তবতা।

ভোক্তারা সেসব ব্র্যান্ডের কাপড় কেনেন, যেসব ব্র্যান্ড তাদের পোশাক উৎপাদনকারী কারখানা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে থাকতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বচ্ছতা। কোথায় কোন পরিবেশে পোশাক তৈরি হয়, সে সম্পর্কে জানার আগ্রহ ও সচেতনতা পশ্চিমা ভোক্তাদের মাঝে বেড়েই চলেছে। ভোক্তারা সেসব ব্র্যান্ডের কাপড় কেনেন, যেসব ব্র্যান্ড তাদের পোশাক উৎপাদনকারী কারখানা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে থাকতে হবে।

পোশাকের সরবরাহ ব্যবস্থায় মানবাধিকার রক্ষাসংক্রান্ত বিধি এবং নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়টি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই সুযোগ যথার্থভাবে কাজে লাগিয়ে একটি বিশ্বস্ত পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক হিসেবে পোশাকের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে নিজের অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে হবে।

লেখক: মোস্তাফিজ উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন