বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সারা দেশে যেসব খাতের কারখানায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোই পরিদর্শন করা হবে। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পকে বাদ দিয়ে সারা দেশে ৩২ খাতের ৪১ হাজার ৬০৪টি কারখানা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার কারখানা পরিদর্শন করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্য কারখানাগুলোও পরিদর্শন করা হবে। এসব কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে কি না, থাকলে সেটি কার্যকর কি না, ফায়ার অ্যালার্ম ঠিক আছে কি না, নিরাপদে কারখানা থেকে বের হওয়ার পথ আছে কি না—এসব বিষয় দেখা হবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

হাসেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর কলকারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে প্রধান করে ২৪ সদস্যের ওই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটি ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠকে বসেছে। গঠন করেছে একাধিক উপকমিটি।

তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্প বাদে সারা দেশে কতটি শিল্পকারখানা আছে, তা জানতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হুমায়ূন কবিরকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে ১২ সদস্যের একটি উপকমিটি। তারা এরই মধ্যে কারখানার একটি তালিকা তৈরি করে জমা দিয়েছে। গত পাঁচ বছরে কোন খাতে কত দুর্ঘটনা ঘটেছে, তারও একটি তালিকা করা হয়েছে। এই তালিকা ধরেই মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বিডার তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে দেশে সর্বোচ্চ ৮১২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তৈরি পোশাকশিল্পে। এ ছাড়া খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানায় ৮৫টি, জাহাজ নির্মাণশিল্পে ৬৮টি, ইঞ্জিনিয়ারিং তথা প্রকৌশল খাতে ১৭টি ও রাসায়নিক কারখানায় ১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত পাঁচ বছরে যেসব খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোতে বেশি পরিদর্শন করা হবে।

সরকারি তথ্যমতে, দেশব্যাপী এখন ৪১ হাজার ৬০৪টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ হাজার কারখানা হলো খাদ্য উৎপাদনকারী খাতের। দ্বিতীয় সর্বাধিক ৩ হাজার ৩২৬টি আছে বস্ত্র খাতে। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকা ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ২ হাজার ৭০৪টি ও ১ হাজার ১৭৭টি কারখানা আছে।

জানতে চাইলে বিডার নির্বাহী সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে কারখানা পরিদর্শনে যাচ্ছি। প্রতিটি দলে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য থাকবেন। প্রতিটি খাতেই কারখানা পরিদর্শন করা হবে। প্রথম দফায় পরিদর্শন হবে পাঁচ হাজার কারখানায়। পরে ধাপে ধাপে কারখানার সংখ্যা বাড়বে।’

বিডার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কারখানা পরিদর্শন শুরু করার আগে মোট ৩৭টি দল গঠন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৫টি দল, চট্টগ্রামে ১১টি দল, নারায়ণগঞ্জে ৯টি দল ও গাজীপুরে ৩টি দল গঠন করা হবে। পরিদর্শন দলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, গণপূর্ত, স্থাপত্য ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের একজন করে সদস্য থাকবেন। প্রতিটি দল দিনে দুটি করে কারখানা পরিদর্শন করবে। এভাবে তিন মাস চলবে অভিযান। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে পরিদর্শন কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কারখানা পরিদর্শনের আগে কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাঁরা কারখানায় গিয়ে কোন কোন বিষয় দেখবেন, তা শেখানো হবে।

বিডার একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক খাতে কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কারকাজ করা হয়েছে। সে কারণে এবারের পরিদর্শনে পোশাক খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বিডা বলছে, প্রতিটি দল পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট কারখানার ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রতিবেদন তুলে ধরবে। প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কাছে। সরেজমিন পরিদর্শনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছে বিডা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে। এর কারণ, দেশে ১০-১৫ বছরেও অনেকেই বিদ্যুতের তার পরিবর্তন করে না। সে জন্য সরকার কারখানা পরিদর্শনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ভালো। এটাকে কাজে লাগানো যেতে পারে।’

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন