বিজ্ঞাপন

পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি উদ্যোগে চলতি বছরের শুরুতে প্রথমবারের মতো একটি ছাদখোলা বাস চালু হয়েছে। ৪৮ আসনবিশিষ্ট দ্বিতল বাসটি সকাল ৯টায় কক্সবাজারের কলাতলী থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে টেকনাফ পর্যন্ত চলাচল করছে। তবে সরকারিভাবে এবারই প্রথম পর্যটকদের জন্য দ্বিতল বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মহিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আপাতত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ট্যুরিস্ট বাস চালু করতে চাই। পর্যটকেরা সকালে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বাসে উঠবেন। সারা দিন বিভিন্ন দর্শনীয় এলাকা ঘুরে আবার আগের জায়গায় নেমে যাবেন। একজন পর্যটকের কাছ থেকে কত টাকা ভাড়া রাখা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মহিবুল হক জানান, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভাড়া বর্তমান দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নির্ধারণ করা হবে।

করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, বলধা গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জাতীয় সংসদ ভবন, সাভার স্মৃতিসৌধ, সোনারগাঁয়ের পানাম নগর, কারুপল্লিসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরবে। আর কক্সবাজার জেলায় কলাতলী থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে টেকনাফসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাবে এসব বাস। আর সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় চা-বাগান, হাওর, জমিদারবাড়ি, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতসহ আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে পর্যটকদের।

তবে পর্যটকদের জন্য এসব বাস আমদানির ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ছয় মাস বর্ষাকাল থাকে। বর্ষার ওই সময় খোলা ছাদের বাস কীভাবে চলবে। বর্ষায় পর্যটক পাওয়া যাবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। পর্যটন করপোরেশনের উপব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) শিপ্রা দে বলেন, ‘সরকারের ক্রয়নীতি (পিপিআর) অনুসরণ করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ট্যুরিস্ট বাসগুলো কেনা হবে। ইউরোপ থেকেই এসব বাস আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, অনেক পর্যটক বর্ষায় ঘুরতে পছন্দ করেন। পর্যটকদের জন্য বর্ষা হলো আমেজ, বাধা নয়।

পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, করোনায় বিধ্বস্ত পর্যটন খাতের নাজুক অবস্থা কাটাতে এসব ছাদখোলা বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন