বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গত বছরের ৩১ মার্চ শ্রমিক সুরক্ষা ও কারখানা চালু রাখার জন্য রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিতে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। পরে ওই বছরের জুন-জুলাই মাসে শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন পরিশোধের জন্য দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনা দেওয়া হয়। করোনার ধকল কাটিয়ে এখন প্রচুর ক্রয়াদেশ আসা শুরু হয়েছে পোশাক কারখানাগুলোতে। সেই সঙ্গে শ্রমিকের চাহিদাও তৈরি হয়েছে। করোনা শুরুর সময়ের তুলনায় রপ্তানিও এখন বেড়েছে।

প্রণোদনার লক্ষ্য শতভাগ সফল উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ) মো. নুরুল আলম বলেন, দেশে ৪৫ লাখের মতো পোশাককর্মী রয়েছেন। ২ শতাংশ সুদে বিশেষ প্রণোদনার আওতায় ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে বেতন দেওয়া হয়েছে। প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে যখনই দরকার পড়েছে, শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনেক শ্রমিকের কথা চিন্তা করে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে জন্মনিবন্ধন সনদ নেওয়া হয়, বেতন পৌঁছাতে মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংকে হিসাব খোলা—দুই ব্যবস্থাই রাখা হয়, যে খাতগুলো অর্থ পাচ্ছিল না বলে অভিযোগ করেছিল, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। করোনাকালের অনিশ্চয়তা শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে যেন ঘাটতি তৈরি না করে, সেটা মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে সরকার।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়েমা হক বিদিশা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলের (সানেম) জরিপের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পোশাক কারখানাগুলো ৫২-৫৩ শতাংশ প্রণোদনার সুবিধা পেয়েছে। ঠিকায় কাজ করা কারখানাগুলো প্রণোদনার বাইরে থেকে গেছে। শুরুতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শ্রমিকের কাছে বেতন পৌঁছানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের হাতে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ছিল না। বেশির ভাগ নারীর মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বামীদের হাতে। ফলে একজন নারী শ্রমিকের নিজের পরিবারকে সহযোগিতা করার মতো স্বাধীনতা ছিল না। এ ছাড়া ১৯ শতাংশ শ্রমিক চাকরি ও মজুরি কমে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন।

এ সময়ে শ্রমিকের চাকরি হারানোর কোনো শঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম। তিনি বলেন, এখন প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। তার বিপরীতে বরং শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, প্রণোদনার অর্থ শ্রমিকের হাতে পৌঁছায়নি এমন অভিযোগ নেই। তবে কারখানার মালিকেরা এ মুহূর্তে প্রণোদনার কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন না। কারণ, যেসব ক্রয়াদেশ এসেছে, সেগুলোর অর্থ হাতে আসবে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে। এ কারণে কারখানার মালিকেরা কিস্তি পরিশোধে সময় চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছেন।

সজাগ কোয়ালিশনের টিম লিডার ও নারীপক্ষের সদস্য মাহীন সুলতান বলেন, কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় যেসব ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। সামনের দিনগুলোতে ছোট ও ঠিকায় কাজ করা কারখানাগুলো কীভাবে প্রণোদনা সুবিধার আওতায় আসবে, সে পরিকল্পনা করা দরকার। প্রণোদনা পাওয়ার শর্ত ছিল, শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধ করা যাবে না। অথচ প্রণোদনা পাওয়া কোনো কোনো কারখানা শর্ত ভেঙে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধ করেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য কোন কারখানা কত প্রণোদনা পেয়েছে, সেই তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা বলেন তিনি।

অনলাইন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন