বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুরে (ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে) ২০১২ সালে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলে। ২০১৪ সাল থেকে উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। এ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রাণ-আরএফএল অন্যান্য পণ্য তৈরির পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্য রিসাইক্লিং শুরু করে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০টি সংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে তাদের। এসব ‘ব্যবহৃত প্লাস্টিক’ মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করছে প্রাণ-আরএফএল।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্লাস্টিক রিসাইক্লিং খাতে প্রায় ৫ লাখ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এ খাতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিনিয়োগ প্রায় ৩২০ কোটি টাকা।

প্রাণ-আরএফএল জানায়, প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন করে তারা। এ ছাড়া ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যবহৃত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে তারা, যা থেকে প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন কাঁচামাল উৎপাদিত হয়। আমদানি করলে এ পরিমাণ কাঁচামালের আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ৪০০ কোটি টাকা। রিসাইক্লিং কার্যক্রমের কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। এ ছাড়া তাতে পরিবেশদূষণ কমছে।’

তিনি আরও জানান, বর্তমানে গ্রুপটি মোট ব্যবহৃত প্লাস্টিকের প্রায় ১০ শতাংশ রিসাইক্লিং করে। পাঁচ বছরের মধ্যে গ্রুপটির পরিকল্পনা হচ্ছে, মোট ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ রিসাইক্লিং থেকে সংগ্রহ করা।

সংগৃহীত ‘ব্যবহৃত প্লাস্টিক’ প্রাণ-আরএফএলের নিজস্ব সংগ্রহ কেন্দ্রের কারখানায় চূর্ণ করে তা প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কসহ দেশের তিনটি কারখানায় রিসাইক্লিং করা হয়। প্রক্রিয়াজাত করে গৃহস্থালি পণ্য, গার্ডেনিং, পোলট্রি আইটেম, পাইপ ও ফিটিংস, গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিস, প্লাস্টিক ব্যাগসহ প্রায় ১০০ ধরনের পণ্য তৈরি করে তারা।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের রিসাইক্লিং বিভাগের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘প্লাস্টিক বর্তমান পৃথিবীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল ব্যবহৃত উপাদান, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া পিইটি বোতল ও পিইটি–জাতীয় প্যাকেজিংয়ের ব্যাপক ব্যবহার হয় বাংলাদেশে। এ ভাবনা থেকে প্রাণ-আরএফএল দুই বছরের মধ্যে পিইটি বোতলের রিসাইক্লিং কারখানা করার পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে ফেব্রিক তৈরি করা যাবে।’

মো. কামরুল হাসান আরও বলেন, বিশ্বে বছরে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয় ৬০ কেজি। প্লাস্টিক ও রিসাইক্লিং প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এ শিল্প আরও বিকশিত হবে। পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন