default-image

জাল নিরীক্ষা প্রতিবেদন ঠেকাতে নতুন সফটওয়্যার চালু করেছে সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদদের সংস্থা দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। আইসিএবি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) যৌথ প্রয়াসে তৈরি হওয়া এই সফটওয়্যারটির নাম হচ্ছে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস)। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা আনা ও করপোরেট কর আদায় বাড়াতে এ সফটওয়্যার চালুর উদ্দেশ্য। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমতুল মুনিম এবং দুই সদস্য আরিফা শাহানা ও মো. আলমগীর হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আইসিএবি সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক এতে স্বাগত বক্তব্য দেন। বক্তব্য দেন আইসিএবির সাবেক সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, কামরুল আবেদীন ও আদিব হোসেইন খান। যৌথভাবে ডিভিএসের নানা দিক তুলে ধরেন আইসিএবির সহসভাপতি মুহাম্মদ ফোরকান উদ্দীন এবং কাউন্সিল সদস্য গোপাল চন্দ্র ঘোষ। অনুষ্ঠানে এনবিআর ও আইসিএবি একটি সমঝোতা চুক্তি করেছে।

বক্তারা বলেন, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত কোম্পানি এখন ১ লাখ ৭৬ হাজার। এর মধ্যে ৭৮ হাজার কোম্পানিই কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিয়েছে। এদের মধ্যে আবার অর্ধেকের বেশি কোম্পানি আয়কর রিটার্ন দাখিল করে না। এ ছাড়া কিছু কোম্পানি নামমাত্র নিরীক্ষা করে। ভুয়া নিরীক্ষা করেও পার পেয়ে যাচ্ছে অনেকে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এখন থেকে আইসিএবির নিবন্ধিত যেকোনো হিসাববিদের প্রস্তুত করা প্রতিটি নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদনসহ যাবতীয় তথ্য ডিভিএসে আপলোড করতে হবে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে এনবিআরে জমা দেওয়া নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদন সঠিক কি না, তা যাচাই করতে পারবেন কর কর্মকর্তারা। আইসিএবির তথ্যভান্ডারের (ডেটাবেইস) সঙ্গে এনবিআরের তথ্যভান্ডার মিলিয়ে দেখবেন। যেসব প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য আইসিএবির তথ্যভান্ডারে থাকবে না, এখন থেকে সেসব প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আর্থিক, প্রশাসনিক, সামাজিক—সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। আর্থিক খাতের অন্যতম ডিজিটাল সংস্কার হিসেবে এবার এল ডিভিএস। এতে জাল নিরীক্ষা প্রতিবেদন বন্ধ হবে। এ ছাড়া এতে কর ফাঁকি রোধ ও জাল প্রতিবেদন চিহ্নিত করা সহজ হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. মুনিম বলেন, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা আনয়নে এবং দেশের রাজস্ব বৃদ্ধিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল ডিভিএস। এর ফলে নিরীক্ষামান বজায় রেখে যথাযথ নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরির প্রবণতা বাড়বে। ডিভিএসের মাধ্যমে তিন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। এগুলো হচ্ছে কারা টিআইএন নেয়নি, কারা রিটার্ন দাখিল করছে না এবং কারা করজালের বাইরে আছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), আরজেএসসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষসহ (আইডিআরএ) অন্য সংস্থাগুলোও ডিভিএস ব্যবহার করে সুফল পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য আইসিএবির সঙ্গে চুক্তি করতে হবে।

সাধারণত কোম্পানির বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমার সময় নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বিবরণীর সঙ্গে নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদনও জমা দিতে হয়। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়কর বিবরণীর সঙ্গে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা পড়ে। সনাতনী উপায়ে এগুলো যাচাই-বাছাই করা কঠিন। আবার আইসিএবির সদস্যরা প্রতিবছর ১৫ থেকে ১৬ হাজার নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে থাকেন। প্রতিবেদনগুলো কতটা যথাযথ, তা যাচাই করারও সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে আইসিএবির সদস্যরা বিভিন্ন কোম্পানির যত হিসাব নিরীক্ষা করবেন, সেগুলোর প্রায় সব তথ্যই বাধ্যতামূলকভাবে ডিভিএসে আপলোড করবেন। তথ্য দেওয়ার পর সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদনের অনুকূলে একটি ‘ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন কোড’ দেবে। কোম্পানির মোট আয়-ব্যয়সহ কিছু সাধারণ তথ্য এতে উল্লেখ থাকবে, যা ওই কোড দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0