বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দেশে করোনা সংক্রমণ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঠিক আগে গত বছরের মার্চ মাসে জরিপের প্রক্রিয়া শুরু হয়। যাঁরা দেশ কিংবা দেশের বাইরে কোথাও ঘুরতে গিয়ে এক রাতের বেশি সময় কাটিয়েছেন, তাঁদেরই জরিপে পর্যটক হিসেবে ধরা হয়েছে। র‍্যান্ডম স্যাম্পলিং বা দৈবচয়নের ভিত্তিতে দেশের ৩৯ হাজার ৪১৭টি খানার ওপর পরিচালিত হয় এই জরিপ।

জরিপের তথ্য বলছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২৯ লাখ ২১ হাজার পর্যটক বিদেশে ঘুরতে যান। ভ্রমণে গিয়ে একেকজন পর্যটক বিদেশে গড়ে ছয় দিন অবস্থান করেন। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পর্যটক গেছেন ভারত ভ্রমণে। এই হার ৬০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরবে যান ৮ শতাংশ পর্যটক। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়ায় গেছেন ৫ শতাংশ পর্যটক। ৩ শতাংশ পর্যটক নিয়ে থাইল্যান্ড আছে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে।

জরিপমতে, বিদেশভ্রমণে গিয়ে বাংলাদেশের পর্যটকেরা সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করেন চিকিৎসাসেবায়। তাঁদের মোট খরচের প্রায় ৩০ শতাংশই যায় চিকিৎসাসেবায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় পরিবহনে। বেশি খরচে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কেনাকাটা, যা শতকরা হিসাবে ২৩ শতাংশ।

বিবিএসের জরিপে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে বহির্গামী পর্যটনে ব্যয় হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিদেশভ্রমণে যাওয়ার আগে প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে খরচ হয়েছে আরও সাড়ে ৭৫০ কোটি টাকা।
বিদেশভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে ডিসেম্বর মাস। জরিপে অংশ নেওয়া ১৪ শতাংশ পর্যটক জানান, তাঁরা ডিসেম্বরে ঘুরতে গেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যটক এপ্রিল মাসে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলেছেন। পর্যটক তৃতীয় পছন্দের মাস জানুয়ারি। এই মাসে ঘুরতে যান ১১ শতাংশ পর্যটক। অন্যদিকে সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে সবচেয়ে কম ঘুরতে যান।

বিবিএস বলছে, বিদেশগামী পর্যটকদের মধ্যে ২৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যা শতকরা হারে মোট পর্যটকের ৬০ শতাংশ এবং সংখ্যায় ১৭ লাখ ৩৮ হাজার। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী বিদেশভ্রমণকারীদের হার ১৩ শতাংশ, যা সংখ্যায় ৩ লাখ ৭৩ হাজার। ১৪ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ৫ লাখ ৮ হাজার বিদেশে ঘুরতে যায়। এই সংখ্যা মোট পর্যটকের ১৭ শতাংশ। ষাটোর্ধ্ব বয়সের বিদেশভ্রমণকারীদের সংখ্যা ৩ লাখ ১ হাজার, যা মোট পর্যটকের ১০ শতাংশ।

জরিপে ৪৮ শতাংশ পর্যটক জানান, তাঁরা বিদেশভ্রমণে গিয়ে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে রাত যাপন করেন। ২৬ শতাংশ সাধারণ মানের হোটেলে রাত যাপনের কথা বলেছেন। ৭ শতাংশ পাঁচ তারকা হোটেলে রাত যাপনের তথ্য জানান।

বিভাগ ভিত্তিতে বিদেশভ্রমণে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা বিভাগের মানুষ। মোট পর্যটকের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ এই বিভাগের। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ। এই বিভাগের পর্যটক ২০ শতাংশ। মোট পর্যটকের ১৮ শতাংশ হলো তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিলেট বিভাগের। সবচেয়ে কম বিদেশভ্রমণে যান ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগের মানুষ।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন