default-image

১৪ নভেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা। নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের ৩ নম্বর ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে একজন নিরপত্তারক্ষী ছাড়া কাউকে চোখে পড়ল না। কারখানা ভবনসহ চারদিকে সুনসান নিরবতা। তবে প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কক্ষ থেকে হইচই শোনা যাচ্ছিল। সেখানে গিয়ে জানা গেল, প্রশাসনের সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাদের বৈঠক চলছে। চিনিকল চালু হওয়া না হওয়া নিয়ে হইচই হচ্ছে।

এরই মধ্যে পাশের কক্ষে প্রশাসন মহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, এমনিতেই মিলে অনেক সমস্যা চলছে। এর মধ্যে আখমাড়াই শুরু করা নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়েছে। আখমাড়াইয়ের তারিখ সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্ধারণ করে। সেটা এখনো হয়নি। দু–এক দিনের মধ্যে হতে পারে। এ ছাড়া মাঠে এখনো আখের জমিতে পানি জমে আছে। এতে মাড়াই শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষিরা মিল চালুর জন্য তাড়াহুড়া করছেন।

বিজ্ঞাপন
এ পর্যন্ত মিলের লোকসান হয়েছে ৫২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু গত বছরই হয়েছে ৮৭ কোটি টাকা। টাকার অভাবে সেপ্টেম্বর থেকে বেতন–ভাতা দেওয়া যাচ্ছে না।
রেজাউল করিম, মহাব্যবস্থাপক নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল

এক প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম জানান, এ পর্যন্ত মিলের লোকসান হয়েছে ৫২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু গত বছরই হয়েছে ৮৭ কোটি টাকা। টাকার অভাবে সেপ্টেম্বর থেকে বেতন–ভাতা দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘১ কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ পড়ে ৯৭ টাকা। অথচ বিক্রি করতে হয় ৬০ টাকা কেজি দরে, তা–ও বিক্রি হচ্ছে না। গুদামে গতবারের ৬ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন চিনি এখনো পড়ে আছে। অথচ বাজারের অন্যান্য চিনির চেয়ে আমাদের চিনির মান অনেক ভালো।’ লোকসান কমাতে হলে চিনির মূল্য সমন্বয় করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। ইতিমধ্যে জিএমের কক্ষে আসেন চিনিকলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন কবীর।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে আখ থেকে চিনি আহরণের হার ৬-৭ শতাংশের ওপরে ওঠে না। অথচ থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে এই হার প্রায় ১০ শতাংশ। ওই ধরনের আখের জাত উদ্ভাবন করে কৃষকদের দিতে পারলেও লোকসান অনেকটা কমবে। তাই এ ব্যাপারে থাইল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হচ্ছে। মিলের উৎপাদিত মোলাসেস থেকে স্পিরিট ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে মিলটিকে সারা বছর সচল রাখার প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।’ এ ছাড়া জনবল কমিয়ে খরচ কমানোর চেষ্টাও অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।

প্রশাসনিক ভবনেই চামটিয়া গ্রামের আখচাষি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আখ রোপণের সময় পার হয়ে যাচ্ছে। অথচ মিল এখনো সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করছে না। টাকার অভাবে বাজার থেকে এগুলো কিনতেও পারছি না।’

মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কাউছার বলেন, ‘মিল আমাদের বেতনের টাকাই দিতে পারছে না। চাষিদের সার কীটনাশক কীভাবে দিবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রস্তুতি শেষ হওয়া সত্ত্বেও এবার এখনো আখমাড়াই শুরু হয়নি। ২০ নভেম্বর মিল চালু হওয়ার কথা ছিল। এখন শুনছি তা হচ্ছে না। দেরিতে মিল চালু হওয়ায় আমাদের মৌসুমি কর্মীরা অর্থসংকটে পড়েছেন।’

গোলাম কাউছার বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে চিনিশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তা না হলে সবাইকে ১০০ টাকা কেজি বা তার চেয়েও বেশি দরে চিনি কিনতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0