default-image

বাজারে পাটের দাম চড়া, কিন্তু তার সুফল পাচ্ছেন না যশোরের পাটচাষিরা। কারণ তাঁদের হাতে এখন কোনো পাঠ নেই। চাষিরা গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তাঁদের খেতের পাট বিক্রি করে দেন। তখন প্রতি মণ কাঁচা পাটের দাম ছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। এখন যশোরের বাজারে সেই পাট ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার রামসরা গ্রামের পাটচাষি নিত্যানন্দ বৈরাগী জানান, গত মৌসুমে এক বিঘা জমিতে চাষ করে ১৩ মণ পাট পেয়েছিলেন। সেই পাট তিনি গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে প্রতি মণ বিক্রি করেন ৩ হাজার টাকার কম দামে। এখন তাঁর ঘরে বিক্রি করার মতো কোনো পাট নেই। তাই বাজারে দাম বাড়লেও তার কোনো সুফল তিনি পাননি। একই কথা জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের পাটচাষি শামীম হোসেনেরও।

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, গত মৌসুমের শুরুতে জুলাই-আগস্ট মাসে জেলার বিভিন্ন বাজারে মান ভেদে পাটের প্রতি মণের দাম ছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। আর গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ওঠে সাড়ে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে দাম কিছুটা কমে সাড়ে ৫ হাজার থেকে পৌনে ৬ হাজার টাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

গত মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে বন্যা হয়েছিল। এ জন্য অনেক খেতের পাট মরে যায়। এতে পাটের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। তা ছাড়া রপ্তানি বেড়েছে কাঁচা পাটের। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বেসরকারি পাটকল রোমান জুট মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী
বিজ্ঞাপন

যশোরের অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়ার বেসরকারি পাটকল রোমান জুট মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গত মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে বন্যা হয়েছিল। এ জন্য অনেক খেতের পাট মরে যায়। এতে পাটের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। তা ছাড়া রপ্তানি বেড়েছে কাঁচা পাটের। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সর্বশেষ আমরা ৬ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে পাট কিনেছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে (২০২০) জেলায় ২৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আবাদ হয়েছিল ২৩ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে। ২০১৯ সালের তুলনায় জেলায় আবাদ বেড়েছে পাটের। ওই বছর আবাদ হয়েছিল ২০ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে।
বাঘারপাড়া উপজেলার পাট ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁচা পাটের দাম সাড়ে ৬ হাজার টাকায় ওঠে গিয়েছিল। বর্তমানে তা কিছুটা কমে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

তবে বেশির ভাগ পাট ব্যবসায়ী বলছেন, বর্তমানে কৃষকের হাতে পাট নেই বললেই চলে। এ কারণে বাজারে দাম বাড়লেও তার সুফল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। বরং মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভবান হচ্ছেন।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দেশ-বিদেশে পাটের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে বাজারে কাঁচা পাটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়েছে।

অথচ চার বছর আগে ২০১৬ সালে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০১৭ সালে তা নেমে আসে ২৪ হাজার ৪৪০ হেক্টরে। যদিও ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল আরও বেশি। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন