default-image

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ২০২১-২৩ সাল মেয়াদি পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব নেবে ফারুক হাসানের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ। গত রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫টি পরিচালক পদের মধ্যে ২৪টিতে বিজয়ী হয়েছে। আর এ বি এম সামছুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ফোরাম ১১টি পরিচালক পদে জয় পেয়েছে।

নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ফারুক হাসান। অন্যদিকে হেরে গেছেন ফোরামের দলনেতা এ বি এম সামছুদ্দিন। তিনি পেয়েছেন ৯০৪ ভোট। আর মাত্র ৯টি ভোট পেলেই তিনি পরিচালক পদে বিজয়ী হতেন। তবে দলনেতা হারলেও ফোরামের হয়ে নির্বাচন করা বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি রুবানা হক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৫৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর ছেলে নাভিদুল হক জয়ী হন ৯৪৩ ভোট পেয়ে। এর ফলে প্রথমবারের মতো বিজিএমইএর পর্ষদে আসছেন মা ও ছেলে।

দীর্ঘ আট বছর পর বিজিএমইএতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকার র‌্যাডিসন হোটেল ও চট্টগ্রামে বিজিএমইএর আঞ্চলিক কার্যালয়ে আট ঘণ্টার পরিবর্তে দশ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ হয়। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রোববার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে ১ হাজার ৯৯৬ জন বা ৮৬ শতাংশ ভোটার নিজেদের রায় দিয়েছেন। সেদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে বিজিএমইএর নির্বাচন বোর্ড।

বিজ্ঞাপন

বিজিএমইএর এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫টি পরিচালক পদের জন্য লড়াই করেন নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের ৭০ জন প্রার্থী। স্বাধীনতা পরিষদ নামের আরেকটি জোট সম্মিলিত পরিষদের সঙ্গে যৌথভাবে নির্বাচন করে।
ঢাকায় ফারুক হাসান ছাড়া সম্মিলিত পরিষদের অন্য বিজয়ীরা হলেন এস এম মান্নান, আরশাদ জামাল, শহীদউল্লাহ আজিম, শেহরীন সালাম, আসিফ আশরাফ, মো. মহিউদ্দিন রুবেল, তানভীর আহমেদ, মো. খসরু চৌধুরী, আবদুল্লাহ হিল রাকিব, হারুন অর রশীদ, রাজীভ চৌধুরী, মিরান আলী, খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ইমরানুর রহমান, নাছির উদ্দিন ও সাজ্জাদুর রহমান মৃধা। এখানে ফোরামের বিজয়ীরা হলেন রুবানা হক, এম এ রহিম, মাহমুদ হাসান খান, আসিফ ইব্রাহিম, ফয়সাল সামাদ, নাভিদুল হক, ভিদিয়া অমৃত খান, ইনামুল হক খান, মিজানুর রহমান।

চট্টগ্রামে সম্মিলিত পরিষদের বিজয়ীরা হলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তানভীর হাবিব, এ এম শফিউল করিম, মো. হাসান, এম আহসানুল হক, রকিবুল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ মেরাজ-ই-মোস্তফা। আর ফোরাম থেকে জয়ী হয়েছেন মো. এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ আবদুস সালাম।

নির্বাচিতদের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষা শেষে তাঁদের বাবার গড়ে তোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের বাবা অথবা মা সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দ্বিতীয় প্রজন্মের পাঁচজন ব্যবসায়ী নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি রুবানা হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংগঠনের নেতৃত্বে যাঁরা আসছেন, তাঁদের শুভেচ্ছা। আগামী পর্ষদেও আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করব। সরকারকে সহযোগিতা করব।’
ফারুক হাসানের নেতৃত্বে ২০ এপ্রিল নতুন কমিটি বিজিএমইএর দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। যেমন বিজয়ী ৩৫ জন পরিচালক নিজেদের মধ্য থেকে ১৬ এপ্রিল একজন সভাপতি ও সাতজন সহসভাপতি নির্বাচিত করবেন। সাত সহসভাপতির মধ্যে ঢাকা থেকে পাঁচজন ও চট্টগ্রাম থেকে দুজন নির্বাচিত হবেন।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর পরবর্তী সভাপতি ফারুক হাসান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্মিলিত পরিষদ থেকে নির্বাচন করলেও আমি সবার সভাপতি হব। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে শক্তিশালী বিজিএমইএ প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমার লক্ষ্য।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তাঁদের বেশ কিছু নীতি–সহায়তা দরকার। সেটি বাস্তবায়ন করাই হবে আমার নেতৃত্বাধীন পর্ষদের প্রথম কাজ।’

সর্বশেষ ২০১৩ সালে সাধারণ সদস্যদের ভোটে বিজিএমইএর নির্বাচন হয়। এরপর নেতৃত্ব নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম দুই মেয়াদের জন্য সমঝোতা করে।

বিজ্ঞাপন
শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন