প্রথম আলো: দেশের বেশির ভাগ মেগা প্রকল্পে প্রিমিয়ার সিমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রকল্পগুলো থেকে কেন প্রিমিয়ার সিমেন্ট বাছাই করা হচ্ছে?

আমিরুল হক: বাংলাদেশে যত বড় প্রকল্প রয়েছে, সব কটিতে সিমেন্ট সরবরাহ করে আসছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। আমাদের হিসাবে ১ হাজার ৭০০টির মতো ছোট–বড় প্রকল্পে আমরা সিমেন্ট সরবরাহ করেছি। পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কর্ণফুলী টানেলের মতো বড় প্রকল্পে সিমেন্ট সরবরাহ করেছি।

প্রকল্পের চাহিদান অনুযায়ী সিমেন্ট সরবরাহ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান যেমন রক্ষা করতে হয়, তেমনি মানের ধারাবাহিকতাও রাখতে হয়। সময়মতো পণ্য প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে হয়। প্রকল্পে ব্যবহারের আগে প্রতিটি ব্যাচের পণ্যের মান পরীক্ষা করা হয়। সবকিছুই যারা রক্ষা করতে পারে, তারাই প্রকল্পে পণ্য সরবরাহে যোগ্য হয়। প্রিমিয়ার সিমেন্ট এ সবকিছুই রক্ষা করে আসছে। সে কারণে প্রকল্পে প্রিমিয়ার সিমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে বেশি।

প্রথম আলো: বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে অবকাঠামো উন্নয়নে কী ধরনের সিমেন্ট সরবরাহ করছেন আপনারা?

আমিরুল হক: দেশে নানা অঞ্চল ও স্থাপনায় কোন ধরনের সিমেন্ট ব্যবহার করা হলে টেকসই হবে, তা নিয়ে আমাদের একটি দল নিয়মিত গবেষণা করে পণ্যের মান উন্নয়ন করছে। একইভাবে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের জন্যও আমরা লবণাক্ত সহিষ্ণু সিমেন্ট উৎপাদন করছি। প্রিমিয়ার সিমেন্টের ঢাকা ও চট্টগ্রামের কারখানায় ডেনমার্কের এফএল স্মিথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিমেন্ট উৎপাদিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের কারখানার ধরন অনুযায়ী নানা ক্যাটাগরির সিমেন্ট তৈরি করছি।

আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ঋতু ও অঞ্চলভেদে বিভিন্ন রকমের সিমেন্ট তৈরি করা, যাতে যেকোনো ঋতু ও অঞ্চলভেদে এবং কাঠামো অনুযায়ী সিমেন্ট ব্যবহার করা যায়।

প্রথম আলো: বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পে এখন মূল চ্যালেঞ্জ কী কী?

আমিরুল হক: আমাদের বক্তব্য হলো, উদ্যোক্তারাই শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। সরকার শুধু নীতিসহায়তা দেবে। সব শিল্প খাতের জন্য সমান সুবিধাও চাই আমরা। যেমন করভার নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে। ব্যবসা শুরুর আগেই পুঁজির টাকা অগ্রিম কর হিসেবে দিতে হয়। আবার বছর বছর করভার বদলানো হয়। এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। এমন নীতি নিতে হবে, যাতে বছর বছর পরিবর্তন করতে না হয়। আবার মধ্যবর্তী কাঁচামাল হিসেবে সিমেন্টের করভার বেশি। মধ্যবর্তী কাঁচামালের আমদানি মূল্যের ৫ শতাংশের বেশি করভার রাখা উচিত নয়। আবার একেক খাতের জন্য একের রকম সুযোগ–সুবিধা না দিয়ে সব খাতের জন্য সমান সুবিধা রাখা উচিত। এগুলো মূলত চ্যালেঞ্জ।

প্রথম আলো: আপনার দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কেমন?

আমিরুল হক: বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অবস্থানে রয়েছে। সরকার সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ–সুবিধা তৈরি করে দিচ্ছে। অবস্থান এবং বিশাল জায়গায় বড় শিল্পনগর গড়ে তোলার সম্ভাবনা এখানে বেশি। তবে সরকারকে বন্দরসুবিধা দিতে হবে। সে জন্য দরকার চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। এক জায়গা থেকে সব সেবা নিশ্চিত করা গেলে শিল্পের রাজধানী হবে এই শিল্পনগর। আমার মনে হয়, বিনিয়োগকারীদের জন্য সব সুবিধা যদি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ৩৪ হাজার একর জমি থেকেও বেশি সম্প্রসারণ করতে হবে আগামী দিনে। নোয়াখালীর চরাঞ্চলসহ দেড় লাখ একর জমিতে এই শিল্পনগর সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন